শেষ মুহূর্তে ড. ইউনূসকে ভিভিআইপি মর্যাদা, মেয়াদকালের অন্যান্য সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজেকে আগামী এক বছরের জন্য ভিভিআইপি ঘোষণা করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নিরাপত্তা সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষমতায় থেকে তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছেন, তা নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠছে।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার দুই মাসের মাথায় গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি দেওয়া হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে গ্রামীণ ব্যাংক অন্যান্য ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অতিরিক্ত সুবিধা পেয়েছে।
একই মাসে গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দেওয়ার একটি রায় প্রত্যাহার করে হাইকোর্ট। এর আগে আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে এই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল।
এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় থেকে ব্যাংকটিতে সরকারের যে ২৫ শতাংশ মালিকানা ছিল, তা কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়।
এর বাইরে গ্রামীণের নামে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন, জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স প্রদান এবং গ্রামীণ টেলিকমকে ডিজিটাল ওয়ালেট সেবা দেওয়ার অনুমতির বিষয়েও "স্বার্থের দ্বন্দ্ব" রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ড. ইউনূসের মেয়াদে গ্রামীণ হেলথটেক প্রতিষ্ঠান 'সুখী'কে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এ ছাড়া ড. ইউনূস প্রবর্তিত সামাজিক ব্যবসা মডেল ব্যাংকিং খাতে বিস্তারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার যে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ জারি করেছে, তার খসড়া প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "এসব ঘটনা স্বার্থের দ্বন্দ্ব ব্যবস্থাপনায় চরম ব্যর্থতার উদাহরণ। এটি হতাশাজনক হলেও বিস্ময়কর নয়। আমাদের ক্ষমতাধরদের মধ্যে জনস্বার্থ ও ব্যক্তিস্বার্থের পার্থক্য করার সক্ষমতা প্রায় অনুপস্থিত, ফলে অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া উপেক্ষিত হয়।"
তিনি আরও বলেন, "যেসব অর্জন যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে সত্যিকার অর্থেই অর্জিত হতে পারত, সেগুলো এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে কি না—এ নিয়ে সন্দেহের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা গর্ব করার মতো কোনো উত্তরাধিকার নয়।"
ভিভিআইপি গেজেট ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়নি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে, ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক গেজেটে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য 'ভেরি ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন' বা ভিভিআইপি ঘোষণা করা হয়।
গেজেটে বলা হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১–এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী তাকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তিনি এক বছরের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নিরাপত্তা পাবেন। গেজেটটি জারি করেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না।
ওই আইনের ২(ক) ধারায় বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের পাশাপাশি সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার ঘোষিত অন্য কোনো ব্যক্তিকেও 'অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি' হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী বিদায়ী সরকারপ্রধানদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসএসএফ নিরাপত্তা দেওয়া হয় না; গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি হলে তবেই তা কার্যকর হয়।
সরকারি গেজেট সাধারণত বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট প্রেসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও সংরক্ষণ করা হয়। তবে গভর্নমেন্ট প্রেসের 'Extraordinary Gazettes (Monthly)' আর্কাইভে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির প্রকাশ তালিকা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট গেজেটটি পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট প্রেসের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ১০ ফেব্রুয়ারি জারি হওয়া গেজেটটি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো নথির ভিত্তিতে গভর্নমেন্ট প্রেসে মুদ্রিত হয়েছে।
তিনি বলেন, "গেজেটটি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এসেছিল। তাদের রিজার্ভেশনের কারণেই তা ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়নি।"
আবু ইউসুফ বলেন, "সরকারের কোনো দপ্তর থেকে যখন গেজেট প্রেসে মুদ্রণের জন্য পাঠানো হয়, তখনই উল্লেখ করা থাকে গেজেটটি অনলাইনে আপলোড করা যাবে কি না। এই গেজেটটির ক্ষেত্রে অনলাইনে দেওয়ার বিষয়ে রিজার্ভেশন ছিল।"
অন্যান্য সুবিধা
গ্রামীণ পরিবারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও কিছু সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে ৬৬৬ কোটি টাকা প্রদেয় কর দাবি নিয়ে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণ পৃথক রিট করেছিল। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সেই রিট খারিজ করে দেয়। তবে দুই মাসের মাথায়, ৩ অক্টোবর একই বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে ওই রায় প্রত্যাহার করে।
এর কিছুদিন পর, ১০ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গ্রামীণ ব্যাংককে পাঁচ বছরের জন্য কর অব্যাহতি দেয়, যা ২০২৯ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তখন এনবিআর জানায়, একই ধরনের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় গ্রামীণ ব্যাংককে বাড়তি কর সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের ট্যাক্স পলিসি বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, "গ্রামীণ ব্যাংকের মাইক্রোক্রেডিট থেকে আয় ছাড়াও অন্যান্য সব আয় করমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক জমায় প্রাপ্ত সুদ, বাড়িভাড়া (যদি থাকে) থেকে আয় বা অন্য কোনো বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয়।"
তিনি বলেন, "সমজাতীয় অন্য কোনো মাইক্রোক্রেডিট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মাইক্রোক্রেডিট থেকে আয় ছাড়া অন্য আয়ের ওপর কর অব্যাহতি নেই।"
এদিকে গ্রামীণ ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও জানান, ব্যাংকটির সব আয় করমুক্ত এবং এ সুবিধা আগে থেকেই ছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে পরবর্তী দুই বছর এই সুবিধা কার্যকর ছিল না। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আবার তা পুনর্বহাল করা হয়।
প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের মালিকানা ছিল ২৫ শতাংশ এবং ঋণগ্রহীতা নারী সদস্যদের মালিকানা ছিল ৭৫ শতাংশ। পরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে গ্রামীণ ব্যাংক আইন সংশোধনের একটি খসড়া পাঠিয়ে তা অধ্যাদেশ আকারে জারি করার নির্দেশনা দেওয়া হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে।
ওই খসড়ায় গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের শেয়ার কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব ছিল। তবে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাংকটিতে সরকারের মালিকানা ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে অধ্যাদেশ জারি করে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, "লাভজনক এ ব্যাংকটিতে সরকারের মালিকানা কমানোর কারণে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"
আবেদন জমা দেওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর অনুমোদন পায় গ্রামীণের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনুমোদন পাওয়া এটিই প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ড. জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে লাইসেন্স পায় ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড। একই বছরের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের সদস্যপদও লাভ করে।
ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ টেলিকমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান 'সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড' পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করার অনুমোদন পায়। ওই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে পিএসপি লাইসেন্স লাভ করে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পরই ঢাকার একটি আদালত অর্থপাচারের একটি মামলায় ড. ইউনূসকে খালাস দেন। এর আগের দিন, অর্থাৎ তার শপথ গ্রহণের আগের দিন, শ্রম আইন লঙ্ঘনের একটি মামলায়ও ড. ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালকদের খালাস দেওয়া হয়। ওই মামলায় এর আগে তাদের ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
৮৪ বছর বয়সী ড. ইউনূস ২০০৬ সালে ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে লাখো মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখার জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
২০০৭-০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে 'নাগরিক শক্তি' নামে রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিলে তিনি প্রথম আওয়ামী লীগের নজরে আসেন। ওই সময় দুর্নীতির অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর ড. ইউনূসের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। দুই বছর পর বয়সসীমা সংক্রান্ত বিধান দেখিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ করে।
এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। প্রায় ১৮ মাস পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করার পর ড. ইউনূস ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন 'যমুনা' ত্যাগ করেন।
এর আগে শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহেনা এবং তাদের সন্তানদের জন্য স্থায়ীভাবে এসএসএফ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ সরকার 'জাতির পিতার পরিবার সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯' নামে একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করেছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার আইনটি সংশোধন করে সেই সুবিধা বাতিল করে।
ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালে তার প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালনকারী শফিকুল আলম এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, বিদায়ের পর এক বছরের জন্য এসএসএফ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস কোনো আইন ভঙ্গ করেননি। বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বা নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও তিনি মনে করেন।
তিনি লিখেছেন, এসএসএফের প্রক্রিয়াগত প্রয়োজনীয়তার কারণেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া এসএসএফ কোনো সাবেক সরকারপ্রধানকে নিরাপত্তা দেয় না।
শফিকুল আলম তার পোস্টে ২০০১ সালে দায়িত্ব ছাড়ার আগে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমানের প্রশাসন থেকে জারি করা একই ধরনের একটি আদেশের কপিও প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ২০২৫ সালের নভেম্বরে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। আদালত জানান, এটি ১৪তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে।
