করপোরেট ঋণে খেলাপি বাড়ায় রিটেইল ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বিতরণ করা প্রতি তিন টাকার মধ্যে এখন প্রায় এক টাকা শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। এতে বড় করপোরেট গ্রাহকদের ওপর ব্যাংকগুলোর দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে ব্যাংকিং খাতের এই ভয়াবহ চিত্র থেকে বেশ ব্যতিক্রম 'রিটেইল ব্যাংকিং' বা খুচরা ঋণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে খুচরা ব্যাংকিংয়ে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ছিল ৭.১০%, যেখানে শিল্প খাতে এই হার ছিল প্রায় ৩২%।
এই বড় পার্থক্য ব্যাংকগুলোকে তাদের ব্যবসায়িক কৌশল নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
সিটি ব্যাংক থেকে শুরু করে ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়া-সহ বিভিন্ন ব্যাংক এখন ব্যক্তিগত ঋণ, গাড়ি ঋণ, গৃহঋণ ও ন্যানো ঋণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ এবং খুচরা ব্যাংকিং কার্যক্রমের জন্য নতুন জনবল নিয়োগ করছে।
খুচরা ব্যাংকিংকে ক্রমেই "ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ" হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এর মাধ্যমে অল্পসংখ্যক বড় ঋণগ্রহীতার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে লাখো-কোটি ব্যক্তি গ্রাহক ও ছোট ব্যবসার মধ্যে ঋণ ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মোট ব্যাংকঋণের ৮.৯% ছিল ভোক্তা ঋণ। এক বছর আগে এই হার ছিল ৮.৬%। ১৭ কোটির বেশি জনসংখ্যার একটি দেশে, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে, সেখানে এই বাজারের সম্ভাবনা বিশাল।
ব্র্যাক ব্যাংক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, "ব্যাংকিং খাতে অতীতে ঘটে যাওয়া নানা অনিয়মের কারণে, ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে তাদের ঋণ পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যময় করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে।"
তিনি বলেন, "যেসব ব্যাংক করপোরেট ব্যাংকিংয়ের ওপর বেশি নির্ভর করেছে এবং এসএমই ও খুচরা ব্যাংকিংয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি, তারা এখন বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের সমস্যায় পড়ছে।"
একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিবিএস-কে বলেন, কয়েকটি ব্যাংক তাদের করপোরেট ঋণ পোর্টফোলিওতে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ তৈরি হওয়ায় এখন রিটেইল ব্যাংকিংয়ের দিকে ঝুঁকছে।
খুচরা ব্যাংকিংও অবশ্য ঝুঁকিমুক্ত নয়। তবে এখানে ঋণের পরিমাণ হাজার বা লাখো গ্রাহকের মধ্যে ছড়িয়ে থাকে; কয়েকজন বড় ঋণগ্রহীতার মধ্যে কেন্দ্রীভূত থাকে না। ফলে এই বৈচিত্র্য ব্যাংকগুলোর কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
খুচরা ঋণের পোর্টফোলিও বাড়াতে ব্যাংকগুলোর দৌড়
বাংলাদেশে খুচরা ব্যাংকিংয়ের সম্ভাবনা আগেভাগেই বুঝতে পেরেছিল সিটি ব্যাংক। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট ঋণের ২১% খুচরা ঋণ। পাঁচ বছর আগে এই হার ছিল ১৪%। ২০২৫ সালে ব্যাংকটির খুচরা ঋণ পোর্টফোলিও ২৬% বেড়েছে। আগের বছর এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৮%।
২০২৫ সালে ব্যাংকটির মোট খুচরা ঋণ বিতরণের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৮,৩৪৮ কোটি টাকা হয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৩,৫৬৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক ভোক্তা ঋণের নিয়ম শিথিল করার পর গাড়ি ঋণ বিতরণ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।
ন্যানো ঋণের ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫ সালে সিটি ব্যাংক-এর ন্যানো ঋণ পোর্টফোলিও বেড়েছে রেকর্ড ৩,৯৫৭ কোটি টাকা, যেখানে এক বছর আগে বেড়েছিল ৮৫৫ কোটি টাকা। বর্তমানে এই পোর্টফোলিও ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সিটি ব্যাংক– বিকাশ-এর মাধ্যমে ন্যানো ঋণ বিতরণ করছে। এর ফলে যেসব গ্রাহকের আনুষ্ঠানিক ব্যাংকঋণে প্রবেশের সুযোগ সীমিত, তারাও ছোট অঙ্কের ঋণ পাচ্ছেন।
সিটি ব্যাংক-এর রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান ও ডেপুটি ডিরেক্টর অরূপ হায়দার বলেন, ন্যানো ঋণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, খুচরা ব্যাংকিং পরিচালনার ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি। তিনি বলেন, "বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য খুচরা ব্যাংকিংয়ে বড় জনবল প্রয়োজন হয়, ফলে পরিচালন ব্যয়ও বেশি হয়।"
এই ব্যয় কমাতে এবং সেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে সিটি ব্যাংক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করছে।
'ব্যাংকগুলোর অ্যামাজন' হতে চায় ব্র্যাক ব্যাংক'
ব্র্যাক ব্যাংক-ও খুচরা ব্যাংকিংয়ে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে।
ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে লাখো ব্যাংকবহির্ভূত বাংলাদেশিকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে ব্যাংকটি। একই সঙ্গে তারা নিজেদের "ব্যাংকগুলোর অ্যামাজন" হিসেবে গড়ে তুলতে চায়—অর্থাৎ এমন একটি ওয়ান-স্টপ আর্থিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে একজন গ্রাহক তার প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের আর্থিক সেবা পাবেন।
চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংক-এর মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ পোর্টফোলিওর ১৮% ছিল রিটেইল ঋণ, যা ১৩,৫০০ কোটি টাকা। এই সম্প্রসারণকে সহায়তা করতে ব্যাংকটি অতিরিক্ত জনবলও নিয়োগ করেছে।
২০২৪ সালে ব্র্যাক ব্যাংক-এর খুচরা আমানত ৩৫% এবং সম্পদ ১৫% বেড়েছিল। ২০২৫ সালে আমানত আরও ৩৪% এবং সম্পদ ২৯% বেড়েছে।
তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, "খুচরা ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে সহজ ও সুবিধাজনক উপায়ে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে হবে। অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে এ ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে। চাহিদা বাড়লে ভোক্তা ঋণের প্রবৃদ্ধিও বাড়বে।"
তবে তার মতে, খুচরা ব্যাংকিং পরিচালনার খরচ এখনো বড় বাধা।
তিনি বলেন, "অনেক ব্যাংক খুচরা ব্যাংকিংয়ে বেশি মনোযোগ দিতে চায় না, কারণ এর জন্য একই সঙ্গে শারীরিক ও ডিজিটাল অবকাঠামো প্রয়োজন। তাই ব্যাংকগুলোকে ডিজিটাল ঋণ দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং খুচরা ব্যাংকিং অবকাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে হবে।"
পূবালী ও ব্যাংক এশিয়ার লক্ষ্যও বড়
পূবালী ব্যাংকের খুচরা ব্যাংকিং পোর্টফোলিও ২০২৫ সালে ৪২%-এর বেশি বেড়েছে।
বর্তমানে ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ১১% খুচরা ঋণ। তবে আগামী তিন বছরের মধ্যে এই হার প্রায় ৩০%-এ উন্নীত করতে চায় ব্যাংকটি। ২০২৮ সালের মধ্যে খুচরা ঋণের পোর্টফোলিও ১৩ হাজার কোটি টাকা করার লক্ষ্য নিয়েছে পূবালী ব্যাংক।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, "দিন দিন চাহিদা বাড়ায় ব্যাংকগুলো খুচরা ব্যাংকিংয়ের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।"
তিনি বলেন, "পূবালী ব্যাংকর খুচরা ব্যাংকিংয়ের অগ্রগতি খুব ভালো।"
তবে তিনি আরও জানান, আগামী তিন বছরের মধ্যে মোট ঋণ পোর্টফোলিওতে খুচরা ঋণের অংশ ১৫%-এর বেশি করার আশা করছে ব্যাংকটি।
ব্যাংক এশিয়া-ও খুচরা ব্যাংকিংয়ে বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
আগামী তিন বছরের মধ্যে মোট বকেয়া ঋণের ১৫% ভোক্তা ঋণে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েছে ব্যাংকটি। ২০২৫ সালে ব্যাংক এশিয়ার খুচরা ব্যাংকিং বিভাগে প্রায় ২৪৬ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন বলেন, তারা খুচরা ঋণের প্রবৃদ্ধি আরও দ্রুত বাড়াতে চান। তিনি বলেন, "গ্রাহকদের চাহিদাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের পণ্য চালুর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।"
ডিবিবিএল-এর খুচরা পোর্টফোলিও বেড়েছে ৯%
ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি (ডিবিবিএল) ২০২৫ সালে ৮৭৫ কোটি টাকা গৃহঋণ বিতরণ করেছে। এতে ব্যাংকটির মোট হাউজিং ফাইন্যান্স পোর্টফোলিও দাঁড়িয়েছে ৪,১০৬ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে ডিবিবিএল-এর খুচরা ব্যাংকিং ব্যবসা ৯.০৩% বেড়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট ঋণ পোর্টফোলিওর ২২.০৫% হলো ভোক্তা ঋণ।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২,৮৯৮.৪৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬.৪%। অন্যদিকে, খুচরা ব্যাংকিংয়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২৯২.৩০ কোটি টাকা, যা মোট খুচরা পোর্টফোলিওর মাত্র ০.৬৫%।
ডিবিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. এহতেশামুল হক খান জানান, আবাসন খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে তাদের গৃহঋণ পোর্টফোলিওতে ধারাবাহিক ও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এটি এই খাতে ব্যাংকের কৌশলগত গুরুত্ব দেওয়াকেও তুলে ধরে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও সুযোগ তৈরি করল
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ঋণ দেওয়ার কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করায় খুচরা ব্যাংকিংয়ের প্রতি ব্যাংকগুলোর আগ্রহ আরও বেড়েছে। এখন ব্যাংকগুলো তাদের সামগ্রিক ঋণ পোর্টফোলিওর প্রবৃদ্ধির তুলনায় আরও দ্রুত খুচরা ঋণ বাড়াতে পারবে।
এই পরিবর্তনের পর বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক আগামী তিন বছরে খুচরা ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যক্তিগত ঋণের সর্বোচ্চ সীমাও ২০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা করেছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮ বছর করা হয়েছে।
বিভিন্ন ব্যাংকের খুচরা ব্যাংকিং বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, ব্যক্তিগত ও গাড়ি ঋণের চাহিদা বাড়ায় এই পরিবর্তনগুলো প্রয়োজনীয় ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে ভোক্তা অর্থায়ন ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.৫৮ লাখ কোটি টাকা। এক বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ১.৪৭ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে এই ঋণ ৭.৫০% বেড়েছে।
বাজার শুধু ঋণের চেয়ে অনেক বড়
খুচরা ব্যাংকিং মানে শুধু ঋণ দেওয়া নয়। ব্যাংকগুলোর জন্য এর আসল মূল্য হলো– দীর্ঘমেয়াদি গ্রাহক সম্পর্ক তৈরি করা।
একজন গ্রাহক প্রথমে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে পারেন। এরপর তিনি ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ব্যক্তিগত ঋণ, গাড়ি ঋণ কিংবা গৃহঋণ নিতে পারেন। পরবর্তী সময়ে একই গ্রাহক বীমা, বিনিয়োগ কিংবা সম্পদ ব্যবস্থাপনা সেবাও নিতে পারেন।
অর্থাৎ, একটি করপোরেট ঋণের তুলনায় একজন গ্রাহক তার পুরো ব্যাংকিং জীবনে একটি ব্যাংকের জন্য অনেক বেশি মূল্য তৈরি করতে পারেন।
খুচরা গ্রাহকরাও ব্যাংকের জন্য বড় একটি আমানতের ভিত্তি তৈরি করেন। লাখো ছোট আমানতকারী থাকলে কোনো ব্যাংক কয়েকজন বড় করপোরেট আমানতকারীর ওপর কম নির্ভরশীল থাকে। কারণ বড় করপোরেট আমানতকারীরা একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিতে বা অন্য ব্যাংকে সরিয়ে নিতে পারেন।
এ ছাড়া কার্ড, পেমেন্ট, রেমিট্যান্স, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বীমা বিতরণ ও বিনিয়োগ পণ্যের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত ফি-ভিত্তিক আয় করতে পারে।
প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে খুচরা ব্যাংকিংয়ের অর্থনীতি
খুচরা ব্যাংকিংয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ব্যয়—ব্যাংকাররা এমনটাই বলছেন।
করপোরেট ব্যাংকিংয়ে তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করলেই চলে। কিন্তু খুচরা ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা, ঋণের আবেদন প্রক্রিয়া করা, গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, ঋণের কিস্তি পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত গ্রাহকসেবা দেওয়ার জন্য বিপুলসংখ্যক কর্মী প্রয়োজন।
তবে ডিজিটালাইজেশন এই চিত্র বদলে দিতে পারে।
মোবাইল অ্যাপ, এজেন্ট ব্যাংকিং, বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় ক্রেডিট স্কোরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কাগজপত্রের কাজ কমানো, দ্রুত ঋণ অনুমোদন এবং লেনদেনের খরচ কমানো সম্ভব।
একটি ডিজিটাল ঋণ শাখাভিত্তিক লেনদেনের তুলনায় অনেক কম খরচে প্রক্রিয়া করা যায়। প্রযুক্তি এমন গ্রাহকদের ঋণযোগ্যতাও যাচাই করতে সাহায্য করতে পারে, যাদের প্রচলিত জামানত নেই বা দীর্ঘদিনের ব্যাংকিং ইতিহাস নেই।
বেতন সংক্রান্ত তথ্য, ইউটিলিটি বিল পরিশোধের ইতিহাস, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য এবং মোবাইল ওয়ালেট ব্যবহারের তথ্য ক্রমেই একজন গ্রাহকের ঋণযোগ্যতা বা 'ক্রেডিটওর্দিনেস' নির্ধারণে ব্যবহার করা যেতে পারে।
