‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা, তবু প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ কমল ৭৯ কোটি টাকা
প্রবাসীদের সেবার মান উন্নয়ন ও রেমিট্যান্স প্রবাহে সহায়তা করতে ডিজিটাল 'প্রবাসী কার্ড' চালুর ঘোষণা দিলেও আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ কমিয়েছে সরকার।
প্রস্তাবিত বাজেটে এই মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ বর্তমান অর্থবছরের সংশোধিত উন্নয়ন বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বা ৭৯ কোটি টাকার বেশি কমানো হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ২৮ কোটি টাকারও বেশি।
সব মিলিয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৮৮০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের (৯৩১ কোটি টাকা) চেয়ে ৫১ কোটি টাকা কম।
জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত মার্চ মাসে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই গত মার্চ মাসে মাসিক রেমিট্যান্স ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ। এটি গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা আশা করি এই ধারা অব্যাহত থাকবে।'
রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখতে সরকার আগের মতোই আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো অর্থের ওপর ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখবে বলে অর্থমন্ত্রী জানান।
শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, মালয়েশিয়াসহ আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালু করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নতুন গন্তব্যে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আলোচনাও অব্যাহত রয়েছে।
প্রস্তাবিত ডিজিটাল 'প্রবাসী কার্ড' প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই বিমা সুবিধা, ব্যাংকিং সেবা, বিভিন্ন কল্যাণমূলক সেবা এবং জরুরি সহায়তা পাবেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা করছে সরকার।
তবে প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারি বরাদ্দ কমানোর এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক বলেন, 'জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসী কর্মীদের বিশাল অবদান থাকলেও তাদের কল্যাণে পর্যাপ্ত সম্পদ বরাদ্দ দিতে সরকার এখনো কুণ্ঠিত।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মন্ত্রণালয়ের কল্যাণমূলক কাজের সিংহভাগ খরচ মেটানো হয় 'ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড' থেকে, যা মূলত প্রবাসীদের নিজেদের দেওয়া অর্থে পরিচালিত হয়, সরকারের কোষাগার থেকে নয়।
সাইফুল হক বলেন, 'যারা বছরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তাদের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় আরও বেশি বিনিয়োগ প্রাপ্য। আমরা আশা করেছিলাম সরকার পুরনো ধারা থেকে বেরিয়ে আসবে, কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে সেই পরিবর্তনের খুব একটা প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।'
