২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে। এটি বিগত অর্থবছরের মূল বরাদ্দের চেয়ে ৩০.৪৩ শতাংশ বেশি।
আজ (১৮ মে) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
মোট বরাদ্দের মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা (৬৩.৩৩ শতাংশ) সরকারি তহবিল থেকে অর্থায়ন করা হবে এবং বাকি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা (৩৬.৬৭ শতাংশ) বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে সংস্থান করা হবে।
নতুন এই উন্নয়ন বাজেটটি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি।
'অগ্রাধিকারভিত্তিক বরাদ্দ'
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা 'দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড'কে জানিয়েছেন, সুষম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়— নতুন উন্নয়ন বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সেই অনুযায়ী, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রেলপথ এবং নৌপথের সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত ১৬.৭০ শতাংশ নিয়ে সামগ্রিকভাবে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে।
বাজেটের ১৫.৮৬ শতাংশ বরাদ্দ নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে শিক্ষা খাত। এরপর স্বাস্থ্য খাতে ১১.৮৪ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১০.৯০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নিম্ন আয়ের এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষায় বাজেটে ১৭ হাজার কোটি টাকা (৫.৬৭ শতাংশ) বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্টাফদের সম্মানী।
ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের ওপরও জোর দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে উত্তরাঞ্চল, পার্বত্য অঞ্চল, হাওর এলাকা এবং উপকূলীয় অঞ্চলগুলোকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া নতুন এডিপিতে 'বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা'র অধীনে ৩৮,০২৭.৪৮ কোটি টাকা এবং 'সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা'র অধীনে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নের ৮ হাজার ৯২৪.৮৬ কোটি টাকা যুক্ত করে মোট উন্নয়ন বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৩,০৮,৯২৪.৮৬ কোটি টাকা।
চলতি বছরের শুরুর দিকে পাওয়া ২,২৬,২৭৮.৬২ কোটি টাকার প্রাথমিক চাহিদার পর অর্থ বিভাগ চূড়ান্ত এডিপি কাঠামো নির্ধারণ করে।
সমন্বিত উদ্যোগ
কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, অনুমোদিত এই প্যাকেজে ১,১৫০টি অর্থায়িত প্রকল্প রয়েছে এবং কোনো তাৎক্ষণিক বরাদ্দ ছাড়াই ১,২৭৭টি অননুমোদিত নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কার ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের নির্বাচনী ইশতেহারের পাঁচটি স্তম্ভের সাথে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সংহতি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রদান, ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন, পেশাদার ক্রীড়াবিদ তৈরি এবং নারী অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ ও সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, মানসম্মত ও প্রযুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষার প্রসার, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সম্প্রসারণ এবং কৃষি ও পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, এই সমন্বিত উদ্যোগগুলোর মূল লক্ষ্য হলো একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
