সরকারের চাহিদা বাড়ায় আবার ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ নিলাম করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
চলতি মাসে আরও একবার বিশেষ নিলামের মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা ধার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৮ তারিখ ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের এই বিশেষ নিলামটি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে চলতি মাসে বিশেষ নিলামের মাধ্যমে মোট ১০ হাজার কোটি টাকা ধার নিচ্ছে সরকার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মূলত টাকার চাহিদা বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলো থেকে টাকা ধার করছে সরকার।
বেসরকারি ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, 'মূলত সরকারের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে। আবার সরকারের টাকাও দরকার, তাই এ মূহুর্তে সরকারের জন্য ব্যাংকই সবচেয়ে বড় ভরসা। কারণ ব্যাংকগুলোতে তারল্য প্রবাহ অনেক বেশি রয়েছে। এমনকি গত মাসের শেষের দিকে ব্যাংকগুলো সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (রিভার্স রেপো) করেছে। তাতে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে এ মূহুর্তে মার্কেট থেকে অর্থ নেওয়া যায়। তাছাড়া চলতি বছরের শুরু থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনছে। এজন্য ব্যাংকগুলোতেও টাকার পরিমাণ বেড়েছে।'
বেসরকারি ব্যাংকের আরেক ঊর্ধতন কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, 'অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকেও সরকারের টাকার চাহিদা বেশি ছিল। তখন ক্যালেন্ডারের বাইরে গিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার নেয় সরকার। বর্তমানে সরকারের যেহেতু টাকার চাহিদা রয়েছে, আর মার্কেটেও তারল্য বেশি রয়েছে, সেজন্য নিলামের মাধ্যমে টাকা ওঠানো হবে।'
সাধারণত প্রতি সপ্তাহের রোববার নিয়মিত ট্রেজারি বিলের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু 'ক্যালেন্ডারের বাইরে' গিয়ে বিশেষ নিলাম করার অর্থ হলো—সরকারের এই মুহূর্তে বিশেষ অর্থের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তাছাড়া ফ্যামিলি কার্ডসহ সরকারের নানা উদ্যোগ গ্রহণ করায় কোষাগারে অর্থের প্রয়োজন রয়েছে।
এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে সরকার ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ৪৪ হাজার কোটি টাকা ৯১ দিন মেয়াদি, ৩৬ হাজার কোটি টাকা ১৮২ দিন মেয়াদি এবং ৩০ হাজার কোটি টাকা ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে নেওয়া হবে।
পাশাপাশি ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে আরও ৩৯ হাজার কোটি টাকার মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের ঋণের চাহিদা পর্যালোচনা করেই এই নিলামসূচি তৈরি করা হয়েছে। তবে ট্রেজারি বিল-বন্ডের মাধ্যমে নেয়া এ ঋণ সরকারের নিট হিসাব নয়। অতীতে নেয়া বিল-বন্ডের মেয়াদ শেষ হলে সেগুলোও নতুন নিলামের মাধ্যমে নবায়ন করা হবে।
বর্তমানে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ। অর্থাৎ চাহিদা না থাকার কারণে ব্যাংক ঋণ বিতরণ হচ্ছে কম। নতুন বিনিয়োগের অভাবে ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন কম। কারণ নতুন বিনিয়োগ বাড়লে মূলধন আমদানি বাড়ে। এজন্য বর্তমানে ব্যাংকে যে তারল্য রয়েছে ব্যাংকগুলোও সেটা ট্রেজারি বিল বন্ডে বিনিয়োগ করছেন। আর ট্রেজারি বিল বন্ডে শতভাগ নিশ্চিত বিনিয়োগ বলে ব্যাংকও এ খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।
