হবিগঞ্জের তিন উপজেলার ১০ ইউনিয়ন বন্যাকবলিত
অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ, বানিয়াচং, নবীগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বানভাসি মানুষ গবাদিপশু নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে স্থানীয় স্কুল-কলেজে আশ্রয় নিয়েছেন।
আজমিরিগঞ্জ উপজেলা সদর, কাকাইলছেও, বদলপুর, বানিয়াচং উপজেলার দৌলতপুর ও মুরাদপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামের প্রায় দুই সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার সকালে আজমিরিগঞ্জ পাহাড়পুর সড়কের কৈয়ারঢালা স্লুইসগেট-সংলগ্ন রাস্তা ও পাহাড়পুর মার্কুলী সড়কের নিকলীরঢালা এলাকার রাস্তা বানের তোড়ে ভেঙে গেছে। ফলে বানিয়াচং ও নবীগঞ্জ উপজেলার কিছু গ্রাম নতুন করে বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আজমিরিগঞ্জ উপজেলা সদরে প্রায় ৮ ইঞ্চি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
পানিতে ডুবে যাওয়ায় আজমিরিগঞ্জ-কাকাইলছেও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পিরোজপুর-বদলপুর রাস্তা উপচে কুশিয়ারা নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করেছে।
এদিকে আজমিরিগঞ্জ পৌর এলাকার জয়নগর, শরীফনগর নয়াবাড়ি, আদর্শনগর, চরবাজার এলাকায় বন্যার পানি বাড়িতে প্রবেশ করায় মানুষ বাড়ি ছেড়ে আজমিরিগঞ্জ সরকারি কলেজ ও মিয়াধন মিয়া গার্লস স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। জানা গেছে, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৪০০টি পরিবার আজমিরিগঞ্জ সদরের ২টি কেন্দ্রে ও বদলপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর কলেজে আশ্রয় নিযেছে। উপজেলার সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মসেন সিংহ জানান, মুরাদপুর ও দৌলতপুর ইউনিয়নে বন্যার পানি ঘরবাড়িতে প্রবেশ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা নিরূপণের জন্য সেখানে লোক পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি ।
এদিকে নবীগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কৈয়ারডালায় ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। ওই ইউনিয়নগুলোর পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উপজেলার বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের একটি প্যাড বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজমিরিগঞ্জ ও নবীগঞ্জ উপজেলায় ১৩৭৫ জন বন্যার্তকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
বন্যা উপদ্রুত এলাকায় জিনিসিপত্রের দাম বেড়ে গেছে। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে শাকসবজির খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে বাজারে মাছ, শাকসবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে।
