একদিন পরই জামিন পেলেন হবিগঞ্জে ওসিকে গালাগালির অভিযোগে গ্রেপ্তার সেই বিএনপি নেতা
হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মোবাইল ফোনে গালিগালাজ ও হুমকির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার একদিন পরই জামিন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তুষার।
আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাহুবল আমলি আদালত-৯ এর ম্যাজিস্ট্রেট তানজিনা রহমান তানিন তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তুষার চৌধুরীকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘ আইনি বিতর্ক শেষে আদালত অস্থায়ী জামিনের এই আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এনামুল হক সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ রিপোর্ট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি তুষার চৌধুরীকে আদালত অস্থায়ী জামিন প্রদান করেছেন।
উল্লেখ্য, গত রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার নিজ বাসা থেকে তুষার চৌধুরীকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওইদিন রাতেই তার বিরুদ্ধে বাহুবল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। মামলায় মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ও আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপমান ও ক্ষতিসাধনের হুমকি এবং এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গত শনিবার বাহুবল থানার ওসির সাথে তুষার চৌধুরীর অশালীন আচরণের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মখলিছুর রহমানের সঙ্গে ওসির ফোনালাপ চলাকালে তুষার চৌধুরী উত্তেজিত হয়ে ওসির উদ্দেশ্যে অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
এদিকে, তুষার চৌধুরীকে আটকের প্রতিবাদে গত রোববার দুপুর ও সন্ধ্যায় দুই দফা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। আজ সোমবারও তাকে আদালতে তোলার আগে আদালত প্রাঙ্গণের সামনে জড়ো হয়ে মুক্তির দাবিতে মিছিল করেন দলীয় সমর্থকরা। জামিন পাওয়ার খবরে নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
