সিটি করপোরেশনের ব্রিজ ভাঙা কার্যক্রম থেকে আগুন লেগেছে নিউ মার্কেটে, দাবি ব্যবসায়ীদের
আজ শনিবার (১৫ এপ্রিল) ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর নিউ মার্কেটের তৃতীয় তলার একাংশে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখানকার ব্যবসায়ীদের দাবি, সিটি করপোরেশনের ব্রিজ ভাঙা কার্যক্রমের সময় বিদ্যুতের লাইনে সমস্যা থেকে আগুন লেগেছে।
আজ ভোরে নিউ মার্কেট সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজটি ভাঙতে আসে সিটি করপোরেশন।
মো. বুলবুল নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, "গতকাল রাত ৪টার দিকে এখানে ফুটওভার ব্রিজের নিচের অস্থায়ী দোকানগুলো উচ্ছেদ করে সিটি কর্পোরেশনের লোকজন। পরে ব্রিজের সিড়ি ভাঙা শুরু করে এস্কেভেটর দিয়ে।"
"হঠাৎ একটা শব্দ হয়ে মার্কেটের ভেতর থেকে আগুন বের হতে দেখে সিটি করপোরেশনের লোকজন চলে যায়। এরপরই শুনি মার্কেটে আগুন লেগেছে," বলেন তিনি।
ফুটপাতের ব্যবসায়ী জুয়েল আহমেদ বলেন, "আমি ৫টা ২০ এর দিকে খবর পাই যে আমাদের দোকান ভেঙে দিচ্ছে। এমন সময় আমি মোটরসাইকেল নিয়ে এসে দেখি আমার দোকান ভেঙে ফেলেছে।"
"সাড়ে ৫টার দিকে যখন আমি মালামাল সরাচ্ছিলাম তখন দেখি মার্কেট থেকে আগুন বের হচ্ছে। যখন সিটি করপোরেশনের লোক ব্রিজ ভাঙছিল তখন বিকট শব্দ হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই মার্কেটে আগুন দেখি," বলেন তিনি।
মো. মনসুর নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, "ভোর রাতে সিটি করপোরেশন কাজ করতে আসে। এটা তো চুরি। সারা বছর ব্রিজ ভাঙার সময় পায় না রমজানের সময় ভাঙতে আসে।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, "চুরি করে রাতে ব্রিজ ভাঙতে এসে আগুন টা লাগিয়ে আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করে গেল।"
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, সিটি কর্পোরেশনের লোকজন সকালে ডিপিডিসির লোকসহ ফুটওভার ব্রিজটির দুই প্রান্ত ভাঙতে যায়। তবে আগুন লাগার উৎপত্তিস্থল ছিল ৩০০ মিটার দূরে। আমরা কেন মার্কেট ভাঙতে যাবো?"
তিনি আরও বলেন, "এ ফুটওভার ব্রিজটি আমরা গত বছর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ব্যানার লাগিয়ে দিয়ে পথ বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আজ সকালে দুই পাশের মার্কেটের সাথের যোগাযোগ পথ ভাঙতে আমরা যাই। ব্রিজটি ভেঙে ফেলতেই এ উদ্যোগ।"
প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে সে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমান বাহিনীর অগ্নিনির্বাপক দলসহ মোট ৩০টি ফায়ার ফাইটিং ইউনিট।
