‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’
অন্য ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমিকার বিয়ে হওয়ায় বরিশাল জেলা পুলিশের এক কনস্টেবল নিজের নামে ইস্যুকৃত রাইফেল দিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে জেলা পুলিশ লাইন্সে সদ্য উদ্বোধন হওয়া সাত তলা একটি ব্যারাক ভবনের ছাদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আত্মহত্যার আগে ওই পুলিশ সদস্য সুইসাইড নোট লিখে গেছেন।
আত্মহননকারী পুলিশ সদস্যের নাম হৃদয় চন্দ্র দাস (২২)। তিনি ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট এলাকার চকদোষ গ্রামের সুকণ্ঠ সাহার ছেলে। হৃদয় চন্দ্র দাস জেলা পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে এক বছর তিন আগে যোগ দেন।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) নাইমুল হক আত্মহত্যার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ব্যারাক হাউসের সামনে হৃদয় চন্দ্রের সেন্ট্রির ডিউটি ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, হৃদয় চন্দ্র রাতের যেকোনো সময় নিজ নামে ইস্যুকৃত রাইফেল দিয়ে সকলের অগোচরে সাত তলা ভবনের ছাদে গিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করে।
বেলা ১২ টার দিকে ব্যারাকের এক পুলিশ সদস্য ছাদে গিয়ে তার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সুপার নাইমুল হক আরও জানান, নিহতের পকেট থেকে দুটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। একটি বাবা ও ছোট ভাইকে উদ্দেশ্য করে লেখা। অন্যটিতে লেখা 'আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়'। এছাড়াও তার মানিব্যাগে একটি মেয়ের ছবি পাওয়া গেছে।
হৃদয় চন্দ্র দাসের একাধিক সহকর্মী জানান, হৃদয়ের সঙ্গে একটি মেয়ের তিন-চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। সম্প্রতি ওই মেয়ের অভিভাবকরা তাকে বিয়ে দিয়ে দেন। এতে হৃদয় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তার মানিব্যাগে ওই মেয়েটির ছবি ছিল।
নাইমুল হক জানান, আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত করে বলা যাবে কেন হৃদয় আত্মহত্যার পথ বেছে নিল। ময়নাতদন্তের জন্য হৃদয়ের মৃতদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
