রাজধানীর নিউমার্কেটে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত যুবক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ টিটন, বলছে পুলিশ
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ওই যুবক 'শীর্ষ সন্ত্রাসী' খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেটের পেছনের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শাহ্ নেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে তাকে গুলি করা হয়। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত যুবকের নাম খন্দকার নাইম আহম্মেদ টিটন (৩৮)। তিনি একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। টিটন রাজধানীর হাজারীবাগের জিগাতলা এলাকার বাসিন্দা।
তিনি আরো বলেন, 'ধারণা করছি, আন্ডারওয়ার্ল্ডের তার প্রতিপক্ষের লোকেরাই তাকে গুলি করে হত্যা করেছে।'
এর আগে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, 'আমরা ধারণা করছি নিহত ব্যক্তি হাজারীবাগের শীর্ষ সন্ত্রাসী নাঈম আহমেদ টিটন। তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি জামিনে কারাগার থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।'
নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, রাত ৮টার দিকে শহীদ শাহ্ নেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে কে বা কারা মোটরসাইকেলে এসে টিটনকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর টিটনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া শিক্ষার্থী মো. মেজবাহ রহমান বলেন, রাত ৮টার দিকে বটতলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ নেওয়াজ হলের সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। দুইজন মোটরসাইকেলে করে এসে ওই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি করেন। তখন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি রাস্তায় পড়ে যান। তখন আশপাশের লোকজন মিলে ধাওয়া দিলে তারা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার পথে লোকজনদেরও ভয় দেখানোর জন্য গুলি ছোড়ে। তারা দুজনেই ক্যাপ ও মাস্ক পরিহিত ছিলেন।
ঘটনার পর ডিসি মাসুদ আলম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছিলেন, 'জানা গেছে, মোটরসাইকেলে করে এসে দুইজন ওই ব্যক্তিকে একাধিক গুলি করেন। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।'
এদিকে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির কপাল ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলির চিহ্ন রয়েছে।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর টিটন নিয়মিত আদালতে হাজিরা দেননি। এ কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
টিটনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক মামলা রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন যে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, টিটন তাদের মধ্যে অন্যতম।
টিটন মূলত ঢাকার রায়েরবাজার ও হাজারীবাগ এলাকার 'শীর্ষ সন্ত্রাসী' হিসেবে পরিচিত। তিনি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক (ইমন টিটনের ছোট বোন নীলাকে বিয়ে করেছেন)। মূলত ইমনের দাপটেই তিনি অপরাধ জগতে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। ২০ বছরেরও বেশি সময় কারাবন্দী থাকার পর ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি জামিন পান। কিন্তু আইনি জটিলতায় কারামুক্তি হয়নি।
