৩০ সেকেন্ড কথার সূত্র ধরে ‘খুনি’ ধরল পুলিশ
‘মোবাইল ফোন ও কিছু টাকার লোভে’ নিজের ভাতিজাকে হত্যার অভিযোগে মো. রানা (২০) নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১২ জানুয়ারি) কসবা উপজেলার শীতলপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ।
রানা উপজেলার কাঞ্চনমুড়ি এলাকার দানু মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, নিজের ভাতিজা সাইদুর রহমানকে (১৯) হত্যার পর তার মোবাইল ফোনে রানা নিজের সিমকার্ড ঢুকিয়ে ৩০ সেকেন্ড কথা বলেন। ওই ৩০ সেকেন্ড কথার সূত্র ধরে প্রযুক্তির মাধ্যমে রানাকে খুনি হিসেবে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর ২ জানুয়ারি কাঞ্চনমুড়ি এলাকার একটি বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে সাইদুরের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সাইদুরের মা হনুফা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কসবা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এসপি আরও জানান, রানা ও সাইদুর সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। দুইজনের বাড়িও একই এলাকায়। সমবয়সী হওয়ায় তাদের চলাফেরা ছিল একসঙ্গে। গত ২৯ ডিসেম্বর কসবা সীমান্ত কমপ্লেক্সের সামনে সাইদুরের সঙ্গে রানার দেখা হয়। তখন সাইদুরের মানিব্যাগে থাকা ‘বেশ কিছু টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন দেখে রানার লোভ হয়’। রানা তখন ওই টাকা ও মোবাইলফোন ‘হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দি আঁটে’।
এসপি আনিসুর রহমান জানান, ‘রাতে এক লোক ইয়াবা নিয়ে আসবে, অটোরিকশায় করে সেই ইয়াবা পৌঁছে দিলে চার হাজার টাকা মিলবে’ বলে সাইদুরকে প্রলোভন দেখায় রানা। সাইদুর প্রলোভনে রাজি হয়ে জানান, অটোরিকশা লাগবে না, রাতে সে কাঞ্চনমুড়ি ড্রেজার মাঠ ধরে হেঁটে ইয়াবাগুলো পৌঁছে দেবে। কথা অনুযায়ী সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ড্রেজারের মাঠে হাজির হয় সাইদুর।
এরপর মাঠে দাঁড়িয়ে সে তার প্রেমিকার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিল। এ সময় রানা একটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে পেছন থেকে তার মাথায় আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর ধারালো ক্ষুর দিয়ে সাইদুরকে গলাকেটে হত্যা করে তার মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন রেখে মাঠের পাশে মরদেহটি একটি বাথরুমের সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়।
এসপি আরও জানান, সাইদুরকে হত্যার সময় তার প্রেমিকা ফোনে কথা বলছিল। হত্যার পর রানা ফোনের সংযোগ কেটে দেয়। এরপর সেই ফোনে তার নিজের সিমকার্ড ঢুকিয়ে একটি নাম্বারে ৩০ সেকেন্ড কথা বলে। প্রেমিকার কথা এবং সেই ৩০ সেকেন্ডের কথার সূত্র ধরে মোবাইল ফোন ও নাম্বার ট্র্যাক করেই রানাকে শনাক্ত করা হয়। রানা ঘটনার পর কসবা থেকে পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দফতর) আবু সাঈদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল) আবদুল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
