হাসপাতালের পর হাসপাতাল ঘুরে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
বুকের ব্যথা অনুভব করায় একে একে তিনটি হাসপাতালে নেওয়া হয় শফিউল আলম ছগিরকে। কিন্তু কোনো হাসপাতালে জুটেনি চিকিৎসা। পরে চট্টগ্রাম নগরের পার্কভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলেও ততক্ষণে তিনি মারা যান।মঙ্গলবার সকালে মারা যান নগরের বায়োজিদ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম ছগির। চিকিৎসকরা বলেছেন, তার মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ। করোনা সন্দেহে অধিকাংশ হাসপাতাল ফিরিয়ে দেওয়ায় তার ভাগ্যে জুটেনি চিকিৎসা।
শফিউল আলমের মৃত্যুর পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগ নেতারা।
জানা গেছে, শফিউল আলম হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে ভর্তি না নেয়ায় পরবর্তীতে বেসরকারি মেডিকেল সেন্টার নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাকে পার্কভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রথম দফায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নানা প্রচেষ্টায় তাকে ভর্তি করানো হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান।
জালালাবাদ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহেদ ইকবাল বাবু বলেন, "ছগির ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কিন্তু করোনা সন্দেহে তাকে হাসপাতালগুলো চিকিৎসা দেয়নি। এটি অমানবিক।"
মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, "মঙ্গলবার সকালে আমাদের থানা আওয়ামী লীগের এক সেক্রেটারি স্ট্রোক করেছিলেন। তাকে তিন-চারটা হাসপাতালে নেওয়া হলেও কোনও হাসপাতালেই সিট খালি নেয় এমন অজুহাতে ভর্তি করায়নি। পরে যখন পার্কভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলো তখন চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন তিনি আর বেঁচে নেই।"
বাংলাদেশ মানবাধিকর কমিশনের ডেপুটি গভর্নর আমিনুল হক বাবু বলেন, "শুধু ছগির নয়, চট্টগ্রামে অনেক মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলো সুদিনে মানুষের পকেট কাটলেও এখন তারা রোগীদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে কোনো ব্যবস্থা এখনো নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এভাবে চললে মানুষ চিকিৎসার অভাবে আরও মরবে। তাই দ্রুত প্রশাসনের উচিৎ দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।"
