রংপুরে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় কমিটি গঠন, আটক ৪৫
রোববার রাতে রংপুরের স্থানীয় হিন্দু বাড়িতে সহিংস হামলার ঘটনায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার ও পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন এই কমিটিতে।
হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে নিশ্চিত করেছেন রংপুরের পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট (এসপি) বিপ্লব কুমার সরকার।
পরিতোষ রায় নামে যে কিশোর আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছিল, হামলার পর সে ও তার পরিবার পালিয়ে গেছে।
এসপি বিপ্লব বলেন, 'হামলাকারীরা গ্রামটিতে তাণ্ডব চালিয়েছে এবং ১৮টি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।'
এ সময় ৬০টিরও বেশি পরিবার আক্রান্ত হয়। অবশ্য কারও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
'হামলার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে,' যোগ করেন এসপি।
এদিকে, এই নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ডিআইজি (রংপুর রেঞ্জ) দেবদাস ভট্টাচার্য।
আরও পড়ুন: রংপুরে ১৮ হিন্দু বাড়িতে আগুন
'পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে,' বলেন রংপুরের পীরগঞ্জ পুলিশ স্টেশনের সাব-ইন্সপেক্টর ও ডিউটি অফিসার মো. খাজিমুদ্দিন। তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।
বলে রাখা ভালো, মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রোববার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার উত্তর করিমপুরে হামলার ওই ঘটনা ঘটে। এ সময়ে হিন্দুদের ১৮টিরও বেশি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
আক্রান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ নিযুক্ত করার পর রোববার দিবাগত রাত ১টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
রংপুরের ডেপুটি কমিশনার আসিব আহসান জানান, আক্রান্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন করা-সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লায় পবিত্র কোরআনের অবমাননা করা হয়েছে- এমন অভিযোগে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয় এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় মন্দির ও পূজা উদযাপন হামলার মুখে পড়ে।
