বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচারে ৭ বছরের কারাদণ্ড
বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচারের মামলা এখন থেকে আদালতে আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। অপরাধ প্রমাণ হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ৭ বছরের জেল কিংবা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। বাজেয়াপ্ত করা যাবে তার সম্পত্তিও।
১৯৪৭ সালের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ভঙ্গকারীর অপরাধ এতদিন আদালতে আমলযোগ্য বিবেচিত হত না। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের করা এক হাজারের বেশি মামলা আদালতে পড়ে থাকলেও বিচার হচ্ছে না, শাস্তির আওতায় আসছে না অভিযুক্তরা।
এখন থেকে অর্থপাচারসহ বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা আমলযোগ্য হবে। এক্ষেত্রে ১০ মার্চ ২০২০ সাল থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত যেসব মামলা হবে সেগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এর পূর্বের মামলাগুলো আমলযোগ্য হবে না। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০০৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়সীমার বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে অনুরোধ করেছিল।
গত ১০ মার্চ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সোমবার প্রজ্ঞাপনটি সার্কুলার হিসেবে ইস্যু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, আইনের এই সংশোধনীর ফলে এখন থেকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ আসবে।
যেহেতু আইনের বাধ্যবাধকতা থাকবে, সেক্ষেত্রে অপরাধীরাও এখন সতর্ক হয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।
"আগে আদালতে মামলা পড়ে ছিল। আদালত মামলাও নিতে চাইতো না। এখন শাস্তি আমলযোগ্য হওয়ায় অপরাধীরা কঠিন বার্তা পেল," বলেন তিনি।
বিজিএমইএ'র সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআই এর সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "প্রচলিত আইন নিয়ে ব্যবসায়ীদের কোন আপত্তি নেই। তবে কেউ যেন অন্যায়ভাবে অহেতুক হয়রানির শিকার না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।"
বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন বিদেশে বিনিয়োগের সক্ষমতা রাখে। তাই বিনিয়োগের সুযোগ সহজ করে দিলে অর্থপাচার কমে যাবে বলে তিনি মনে করেন।
পণ্য আমদানি-রপ্তানির আড়ালে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার হয়ে থাকে। আমদানির পরিমাণ বেশি দেখিয়ে কিংবা রপ্তানি আয় কম দেখিয়ে অর্থপাচার হয়ে থাকে।
নিউইয়র্ক ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি এর ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ২০০৫ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ১১ বছরে ৮.১৭ হাজার কোটি ডলার পাচার হয়েছে, যার পরিমাণ ৬.৮৬ লাখ কোটি টাকার বেশি।
আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার বা অনিয়ম বন্ধে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর আওতায় আদালতে হাজারখানেক মামলা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কিন্তু এতদিন আইনের দুর্বলতার কারণে এসব মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছিল না। অন্যদিকে আদালত মামলা আমলে নিতেও অসম্মত ছিল। এখন সেই বাধা দূর হয়ে গেল। আদালতে মামলা চলবে এবং শাস্তির আওতায় আসবে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ভঙ্গকারীরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রপ্তানির অর্থ দেশে না আসা কিংবা আমদানির বিপরীতে পণ্য দেশে না পৌঁছানো সংক্রান্ত যেসব অনিষ্পন্ন বিল অব এন্ট্রি আছে তার পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার হবে।
আরও জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনটি বেশ পুরোনো হওয়ায় সম্পূর্ণ নতুন একটি আইন তৈরির কাজ চলছে। চলতি বছরের মধ্যে আইনটির কাজ শেষ হতে পারে।
