বেগম জিয়া অন্যান্য বন্দীদের চেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করছেন: প্রধানমন্ত্রী
যারা অপরাধ করবে তাদের বিরুদ্ধে আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে বলে আবারও সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আজারবাইজানের বাকুতে স্থানীয় হিলটন হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাতকালে একথা বলেন।
আলোচনায় তিনি তাঁর সরকারের গৃহীত সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপসহ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত বিষয়ে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী অপরাধীদের শাস্তি প্রদানের বিষয়টি টেনে বলেন, "আপনারা দেখেছেন অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমাদের দলের কেউ অপরাধে জড়িত হলে সে-ও তৎক্ষণাৎ শাস্তি ভোগ করছে।"
প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, "অপরাধীরা অপরাধীই। আমরা অপরাধীদের অপরাধীর দৃষ্টিতেই দেখব। সেটাই দেখার চেষ্টা করছি। অন্যকে শিক্ষা দেওয়াটা নিজের ঘর থেকেই শুরু করা উচিত। আমি সেটাই করছি। এটা অব্যাহত থাকবে।"
এ প্রসঙ্গে বিএনপি-জামায়াত সরকারের ব্যাপক দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "তাদের পাঁচ বছরের দুঃশাসনে দেশে দুর্নীতির সীমা ছিল না।"
একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদের হীন স্বার্থে বিভিন্ন বিষয়ে গুজব ছড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে একজন প্রবাসীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিএনপি নেত্রী অন্যান্য বন্দীদের চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। তাঁর ইচ্ছানুযায়ী কারাগারে তাঁর সঙ্গে একজন গৃহপরিচারিকা রাখা হয়েছে।
"কারাগারের ইতিহাসে বা কোনো দেশে এমন নজির নেই যে, কোনো নিরপরাধ গৃহপরিচারিকা একজন বন্দীর সঙ্গে কারাগারে অবস্থান করছে। কিন্তু খালেদা জিয়া সেই সুবিধা ভোগ করছেন"— বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান যে, খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে একটি কেবিনে রেখে তাঁর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
"বিএনপি বলছে, বেগম জিয়া অসুস্থ। তারা তাঁর মুক্তির দাবিকে আন্দোলনের ইস্যু বানাতে এটা বলছে। কিন্তু বিএনপি তার মুক্তির আন্দোলন বা জনমত গঠন করতে পারেনি। সে ক্ষেত্রে আমরা কী করতে পারি?"
প্রধানমন্ত্রী জানান, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিগত কেয়ারটেকার সরকারের আমলে দায়েরকৃত মামলায় তাঁর সাজা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা চলমান রয়েছে। তাঁর দুই সন্তান মানি লন্ডারিং, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ও ১০ ট্রাক অস্ত্র-মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।
সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে একথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "অভিযানগুলোতে আমরা ভালো ফল পাচ্ছি। কারণ মাদক একটি ব্যক্তি ও পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।"
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য ভাসানচরে আবাস গড়ে তোলার কথা বলেন। তবে কিছু এনজিও রোহিঙ্গাদের সেখানে যেতে দিতে চায় না বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য, আইসিটি ও সামাজিক নিরাপত্তা সেক্টরে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
প্রসঙ্গক্রমে তিনি দেশের আর্থ-সামজিক উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদানের কথাও বলেন।
বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের বিমান নেটওয়ার্ক বাড়ছে সেটি জানিয়ে তিনি প্রবাসীদের বলেন, সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে আরও ১০টি বোয়িং এয়ারক্রাফট কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুটি ও কানাডা থেকে তিনটি বোয়িং কেনা হবে।
