বেইলি ব্রিজে পাহাড়ের খাদে খাদে ঝুঁকি
বান্দরবানে গুরুত্বপূর্ণ ৮টি সড়কে প্রায় চার দশক আগে তৈরি হয় দেড় শতাধিক বেইলি সেতু। বিভিন্ন সড়কের এসব বেইলি সেতুর অবস্থা এখন খুবই নাজুক। সেতুগুলো দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বার বার সংস্কার করার পরও ভেঙ্গে পড়ছে। আর এসব সেতু দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে হালকা ও ভারি যানবাহন।
পাহাড়ে খাদে খাদে সেতুগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি বিপদজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু সেতুগুলো শিগগির সংস্কার এবং নতুনভাবে তৈরি করা না হলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বন্ধ হয়ে যেতে পারে যোগাযোগ ব্যবস্থা। জেলা শহর থেকে বিভিন্ন উপজেলা সড়কের বেইলি সেতুগুলো আরও নাজুক অবস্থা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, বান্দরবান থেকে রুমা উপজেলার ৪৮ কিলোমিটার সড়কে ১৩টি বেইলি সেতু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, রুমা সড়কে তারাছা খালের উপর নির্মিত বেইলি সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন যাত্রীরা। সেতুর উভয় পাশে গাছের তক্তা দিয়ে বসানো। মাঝখানে কিছু তক্তা পুরনো হয়ে উঠে গেছে। ভেঙ্গেও গেছে অর্ধেক। যাত্রীবাহী সব যানবাহন সর্তকতার সঙ্গে সেতু পার হচ্ছে। ইট, বালু ও গাছ বোঝাই ট্রাক চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ।
গত ১ ডিসেম্বর রুমা থেকে শহরে মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন লালথান বম ও উচনু মারমা। তারা জানান, ‘‘শুষ্ক মৌসুমে আপাতত ভয় নেই। কম ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু বর্ষাকালে পাহাড় থেকে কাদা ও পাথর পড়ে সেতুতে জমে যায়। এ সময় চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়।’’
বাসচালক সুজন মজুমদার বলেন, ‘‘বেইলি সেতুতে অত্যন্ত সর্তকতার সঙ্গে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে যাত্রীবাহী যানবাহন চালকদের। প্রতি বর্ষায় কোনো না কোনো বেইলি সেতু ধসে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।’’ তবে কিছু সেতু সংস্কারেরও অনুপযোগী বলে জানান তিনি।
রুমা সড়কে কৈক্ষ্যংছিরি পর্যন্ত গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ-ছয়টি বেইলি সেতু মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো কোনো বেইলি সেতুর নিচে বালুর বস্তা আবার কোনোটাই নিচে গাছের তক্তা দিয়ে আটকানো। এসব সেতুর উপরই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় প্রতিদিন চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। আবার বর্ষাকালে সেতুর উপর কাদামাটি জমে যানবাহন আটকে থাকে অনেক সময়। ফলে একদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা অন্যদিকে সময়ের অপচয়। যার কারনে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রীদের।
ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে ভোগান্তির কথা জানিয়ে বিভিন্ন পরিবহন চালক ও যাত্রীরা জানান, নতুনভাবে ব্রিজ তৈরি না করা পর্যন্ত সংস্কারে কাজে আসবে না। বর্ষাকালে কয়েক দিন পর পর কোনো না কোনো সেতু ভেঙ্গে যায়। এ সময় রুমা থেকে শহরে আসতে আড়াই ঘণ্টার জায়গায় চার-পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে।
রুমা বাজারে মুদি দোকানদার ও ব্যবসায়ী বাসু কর্মকার বলেন, ‘‘কোনো কারণে সেতু বন্ধ থাকলে বিকল্প হিসেবে সাঙ্গু নদীর পথ ব্যবহার করতে হয়। তখন অতিরিক্ত সময় ও খরচ চলে যায়। বাধ্য হয়ে বাজারে জিনিসপত্রের দামও বাড়াতে হয়।’’
এদিকে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য মতে, জেলা শহর থেকে বিভিন্ন উপজেলা সড়কে ৫১ টি বেইলি সেতুই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে রুমায় ১৩টি, রোয়াংছড়ি ৫টি, থানচিতে ৫টি, লামা-আলীকদম সড়কে ৫টি, চন্দ্রঘোনা সড়কে ৫টি, রাঙামাটি সড়কে ৫টি এবং অভ্যন্তরীন অন্যান্য সড়কে ১৩টি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সেলিম আজাদ খান জানান, জেলায় ৭৬টি বেইলি সেতু রয়েছে। মাটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বেইলি সেতুগুলো গার্ডার ব্রিজ করার জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
