টাঙ্গাইলে ধর্ষিতা তিন স্কুল ছাত্রীকে টিসি, সমালোচনার মুখে প্রত্যাহার
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ধর্ষণের শিকার তিন স্কুল ছাত্রীকে তাদের স্কুল কর্তৃপক্ষ ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়ার ছয়দিন পর আজ বুধবার সেটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। টিসি দেওয়ার বিষয়টি প্রচার হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ দিকে এই তিন ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার খবরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন নারী অধিকার কর্মী ও মানবাধিকার কর্মীরা।
ঘাটাইল উপজেলা সদরের এসই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির তিন ছাত্রী গত ২৬ জানুয়ারি উপজেলার ঝড়কা বন এলাকায় বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় এক ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জড়িত চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন। তারা এখন কারাগারে।
এ দিকে ধর্ষণের শিকার তিন ছাত্রীকে তাদের স্কুল কর্তৃপক্ষ গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দেন। এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বুলবুলি বেগম জানান, স্কুল পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে ছাত্রীদের টিসি দেওয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যে দুজন ছাত্রী স্বেচ্ছায় স্কুল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন বলে তাদের টিসি দেওয়া হয়।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু জানান, অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকই এই তিন ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। এ মেয়েরা স্কুলে পড়লে ওই অভিভাবকরা তাদের মেয়েদের স্কুলে রাখবেন না বলে জানিয়েছিলেন। তাই স্কুল পরিচালনা কমিটির সভা করে দুই সপ্তাহ আগে ওই তিন ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আজাদ জানান, ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে ধর্ষকদের বিচারের জন্য ভূমিকা রাখা উচিত ছিল স্কুল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তারা উল্টো শিক্ষার্থীদের টিসি দিয়ে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করেছেন। তাদের এই সিদ্ধান্ত প্রকারান্তরে ধর্ষকদের পক্ষেই গেছে।
নারী নেত্রী ও মানব প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা শেলী জানান, তিন শিক্ষার্থীকে টিসি দিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ মহা অন্যায় করেছেন। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা প্রয়োজন।
ঘাটাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার সরকার জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে বুধবার থেকে তাদের টিসি প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেছেন। ধর্ষিতা ছাত্রীদের ওই স্কুলে ক্লাস করতে আর বাধা নেই।
