রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিং ২৮ এপ্রিল, গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হবে জুলাই-আগস্টে
আগামী ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিং শুরু হতে যাচ্ছে। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে জুলাইয়ের শেষ দিকে অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এ প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন টিবিএসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, 'ফুয়েল লোডিংয়ের সময়েও কিছু টেস্টিং চলমান থাকবে। সব পরীক্ষা শেষ করে তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে বা জুলাইয়ের শেষ দিকে অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে।'
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, প্রথমবার রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। পরে প্রতি মাসে ১০-১৫ শতাংশ করে উৎপাদন বাড়তে থাকবে।
কর্তকর্তারা আরো জানান, ফিজিক্যাল স্টার্টআপের পর পূর্ণ ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগতে পারে প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস।
এ বছরের শেষের দিকে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত ১২ মার্চ রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৭ এপ্রিল ফুয়েল লোডিংয়ের শুরু হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কমিশনিং লাইসেন্স বিলম্বের কারণে ফুয়েল লোডিংয়ের তারিখ পিছিয়ে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
গত কয়েক বছরে রূপপুর প্রকল্পের কাজ একাধিকবার পিছিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, জ্বালানি লোডিংয়ের পর মার্চেই প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
কিন্তু নিরাপত্তার জন্য বাড়তি কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হওয়ায় শেষপর্যন্ত মার্চে উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
২০১৩ সালের অক্টোবরে রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃসরকারি চুক্তির মাধ্যমে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লি ও পানি শীতলকারী ডোমের কংক্রিট ঢালাই কাজ উদ্বোধন করেন।
২০২১ সালের শুরুতে একটি ইউনিট উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও করোনা মহামারির জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। পরে ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ আরো বিলম্বিত হয়।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট-এর সঙ্গে ২,৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুটি ইউনিটের নির্মাণ, সরঞ্জাম সরবরাহ, প্রশিক্ষণ ও জ্বালানি-সংক্রান্ত চুক্তি সই করে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন।
গত বছরের মার্চে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বাড়িয়ে সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। শুরুতে এই প্রকল্পের ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২.৯১ টাকা। সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদের পর খরচ বেড়ে হয় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। মূলত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে বৃদ্ধি এবং কিছু অঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে।
কর্মকর্তারা বলেন, করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ডলার সংকট প্রকল্পের অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলেছে। ফলে ২০২৫ সালের ৩ জুন দুই দেশের ৯০তম যৌথ সমন্বয় বৈঠকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইউনিট-২-এর প্রাথমিক হস্তান্তর ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।
