কারাগারে খালেদাকে ‘স্লো-পয়জনিং’ করা হয়েছিল কি না, প্রশ্ন ফখরুলের
দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় 'স্লো পয়জনিং' করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবিতে যুবদলের বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়ে এ সন্দেহের কথা জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, "বন্দী থাকা অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়াকে কি কোনো স্লো-পয়জনিং করা হয়েছিল? আমরা এটা পরিষ্কার করে জানতে চাই। এদের পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয়। যারা জোর করে আগের রাতে ভোট ডাকাতি করে জোর করে ক্ষমতায় বসে থাকতে পারে, যারা অবলীলায় ৩৫ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করতে পার, অবলীলায় গণতান্ত্রিক কর্মীদের গুলি করে হত্যা করতে পারে, তাদেরকে পঙ্গু করে দিতে পারে, যারা আমাদের ৫০০ নেতাকর্মীকে গুম করে দিতে পারে তাদের পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয়।"
গতকাল বুধবার বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন। এক নাগরিক সম্মেলন থেকে তাকে দ্রুতই দেশের বাইরে পাঠানোর দাবি জানিয়েছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট্রি জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
সমাবেশে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই তাদের নেত্রীকে মামলা দিয়ে কারাবন্দি করেছিল সরকার।
তিনি বলেন, "যার বয়স ৭৬, তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিতে দিতে মিথ্যা মামলা দিয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছিলো। পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত ভবনে তাকে প্রায় ২ বছর আটক করে রাখা হয়েছে। তারপর তাকে পিজি হাসপাতালে এনেও চিকিৎসা দেয়নি।"
"তিনি এখন এতোই অসুস্থ যে ডাক্তাররা বলছেন, আমাদের বিদ্যা-জ্ঞান শেষ। আমরা এখানে আর কিছু করতে পারবো না। তাকে বিদেশে পাঠাতেই হবে। কিন্তু হাসিনা তা শুনতে চান না।"
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে ইঙ্গিত করে সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, "মন্ত্রীরা চাইলেও একজনের কারণে বিদেশ যেতে পারছেন না খালেদা জিয়া। দেশের সাংবাদিক, ডাক্তার, আইনজীবী, বুদ্ধিজীবীরা বলছে। মন্ত্রীরা বলছেন, জনগণ বলছে, সবাই বলছে এবং বিদেশি চাপও আছে। কিন্তু তিনি কারও কথা শুনছেন না। শুধুমাত্র প্রতিহিংসার কারণে তিনি কারও কথা শুনছেন না।"
সমাবেশ থেকে কর্মীরা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণার আহ্বান জানালে এতে মির্জা ফখরুল কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, "আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কৌশলগতভাবে কর্মসূচি পালন করতে হবে। সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারকে বাধ্য করা হবে।"
জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু'র সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম জাহাঙ্গীর, কামাল আনোয়ার আহমেদ, গিয়াসউদ্দিন আল মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
