আম্পানে প্রাণ গেলো ৫ জনের

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর এসেছে।
নিহতরা উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর ও সাতক্ষীরার বাসিন্দা।
তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা মন্ত্রণালয়ের জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা চার।
অতি প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানার পর স্থলভাগে উঠে এসে তাণ্ডব চালাচ্ছে।
বুধবার বেলা ৪টা থেকে সাতক্ষীরা উপকূলে ঘূর্ণিঝড়টি তাণ্ডব শুরু করে যা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চলছে।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পটুয়াখালীর গলাচিপায় ঝড় থেকে বাঁচতে বাবা-মায়ের সঙ্গে সাইক্লোন সেন্টারে (আশ্রয় কেন্দ্রে) যাওয়ার পথে রাশেদ নামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু গাছ চাপায় মারা যায়।
ভোলার চরফ্যাশনের কচ্চপিয়া এলাকায় আম্পানের কারণে সৃষ্ট ঝড়ে গাছচাপা পড়ে সিদ্দিক ফকির নামে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।
এছাড়াও সাতক্ষীরা শহরের সংগীতা মোড় এলাকায় রাত ৮টার দিকে ঝড়ের মধ্যে আম কুড়াতে গিয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ সন্ধ্যার দিকে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের অগ্রভাগ সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আঘাত হেনেছে। ওই এলাকায় বর্তমানে বাতাসের গতিবেগ ৬০-৭০ কিলোমিটার।
খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, খুলনার উপকূলীয় এলাকার ২ লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। তবে, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাননি তিনি।
এর আগে, বুধবার সকাল ৬টায় মোংলা ও পায়রাসমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর,বরগুনাসহ উপকূলীয় জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় রয়েছে। বুধবার সারা রাত ধরে আম্পান সুন্দরবন উপকূল অতিক্রম করবে।