বিমানের সবচেয়ে নিরাপদ আসন কোনটি?
ফ্লাইট বুক করার সময় কোন আসনটি জরুরি মুহূর্তে আপনাকে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা দেবে — এমন বিষয় নিয়ে কি আপনি ভাবেন? খুব সম্ভবত না। তবে এ ভাবনার উত্তর খুঁজেছে দ্য কনভার্সেশন।
বেশিরভাগ মানুষ আরামের কথা ভেবে আসন নিয়ে থাকেন। যাদেরকে ঘনঘন বিমানে যাতায়ত করতে হয়, তারা সচরাচর দরজার পাশের আসনটি চান। কারণ তাহলে বিমান অবতরণের পর আগেভাগে বের হওয়া যায়।
বিমানভ্রমণ নিরাপদ
বিমানের আসনের সঙ্গে নিরাপত্তার সম্পর্ক নিয়ে আরও কিছু বলার আগে এ কথাটি স্পষ্ট করে দেওয়া উচিত যে, বিশ্বে পরিবহনের সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো বিমানভ্রমণ। ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় সাত কোটি ফ্লাইট পরিচালিত হয়, এর মধ্যে কেবল ২৮৭টি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেফটি কাউন্সিল-এর উপাত্ত অনুযায়ী, বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রতি ২০৫,৫৫২টি ফ্লাইটের মধ্যে একটি। অন্যদিকে গাড়ির ক্ষেত্রে এ হার এক অনুপাত ১০২।
সত্যি কথা বলতে, বাণিজ্যিক বিমানে চড়ার সময় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু তারপরও যদি আপনি কৌতূহলী হয়ে জানতে চান, কোন আসন সবচেয়ে বেশি নিরাপদ, তাহলে এ লেখার শেষ পর্যন্ত পড়তে পারেন।
মাঝখানে ও পেছনে
১৯৮৯ সালে ইউনাইটেড ফ্লাইট ২৩২ আইওয়াতে দুর্ঘটনায় পড়ে। ওই বিমানে থাকা ২৬৯ জনের মধ্যে ১৮৪ জন বেঁচে যান। এসব বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বেশিরভাগ বসেছিলেন প্রথম শ্রেণীর পেছনে, বিমানের সম্মুখভাগে।
তা সত্ত্বেও টাইম ম্যাগাজিনের ৩৫ বছরের বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে করা অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিমানের মাঝখানের পেছনের আসনগুলোতে মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে কম। এ ঝুঁকির হার ২৮ শতাংশ যেখানে মাঝখানের আইলের আসনগুলোতে ঝুঁকি ৪৪ শতাংশ।
এটি যৌক্তিক বলেই মনে হয়। বহির্গমন পথের পার্শ্ববর্তী সারির কাছাকাছি বসলে — ওই অংশে কোনো আগুন না ধরার সাপেক্ষে — যেকোনো জরুরি মুহূর্তে আপনি দ্রুত বিমান থেকে বের হতে পারবেন। কিন্তু বিমানের পাখায় এর জ্বালানি সংরক্ষণ করা হয়, তাই মাঝখানের দরজার পাশের সারি সবচেয়ে নিরাপদ সারির তালিকা থেকে এমনিই বাদ পড়ে যায়।
আবার একেবারে সামনে বসার মানে হচ্ছে দুর্ঘটনায় পেছনে বসা যাত্রীদের তুলনায় আপনি আগে ধাক্কাটা গ্রহণ করবেন। জানালা বা আইল সারির আসনের তুলনায় মাঝখানের আসনগুলো বেশি নিরাপদ, কারণ এ আসনগুলোতে বসলে আপনি দুপাশে থাকা যাত্রীদের একপ্রকার সুরক্ষাবেষ্টনীর মধ্যে থাকবেন।
কিছু জরুরি পরিস্থিতি একটু বেশিই বিপজ্জনক
জরুরি পরিস্থিতির ধরনের ওপর বেঁচে থাকাটা অনেক সময় নির্ভর করে। কোনো পর্বতের ওপর বিমান হুমড়ি খেয়ে পড়লে, সেক্ষেত্রে বাঁচার সম্ভাবনাটা অনেক কমে যাবে।
বিমান খাড়াভাবে সমুদ্রে পড়লেও মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। এসব জরুরি মুহূর্তে পাইলটেরা বিমানকে কোনো সমতল স্থানে যতটা স্বাভাবিকভাবে সম্ভব ল্যান্ড করাতে চেষ্টা করেন।
আধুনিক বিমানগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি কম্পোজিট উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়। এসব বিমানের পাখাগুলো শক্ত না করে নমনীয় করে বানানো হয় যাতে এগুলো কাঠামোগত ত্রুটি প্রতিরোধে প্রচুর চাপ সইতে পারে।
বিমানের ধরনে কি নিরাপত্তার পার্থক্য তৈরি হয়?
এয়ারস্পিড, উচ্চতা ইত্যাদি চলক বিমানভেদে ভিন্ন হতে পারে কিন্তু সব ধরনের বিমানেই ওড়ার ক্ষেত্রে পদার্থবিজ্ঞানের একই সূত্রসমূহ কাজ করে।
সাধারণত, বড় বিমানগুলো উড়ন্ত অবস্থায় বেশি চাপ সামলাতে পারে। অর্থাৎ, জরুরি মুহূর্তে এগুলো থেকে কিছু বাড়তি নিরাপত্তা পাওয়া যায়। কিন্তু এটা পুরোটাই নির্ভর করে বিপদের মাত্রার ওপর।
তার মানে এ নয় যে, পরবর্তী ফ্লাইটটি আপনাকে সবচেয়ে বড় বিমানটিতেই বুক করতে হবে। আবারও জোর দিয়ে এটাই বলতে হচ্ছে, বিমাযাত্রা সবচেয়ে নিরাপদ ভ্রমণের উপায়। তাই বিমানের চড়ে নিরাপত্তা নিয়ে না ভেবে বরং কোন সিনেমাটি দেখবেন সেটা নিয়ে ভাবতে বসুন।
