প্রকৃতি যখন অসহনীয়, তখন মাটির নিচে ‘সুড়ঙ্গ শহর’ আর মরুর বুকে কৃত্রিম ‘বনে’ টিকে থাকবেন যেভাবে
কানাডার শীতের প্রস্তুতি না থাকলে বিপদ। টরন্টো বা মন্ট্রিলে তাপমাত্রা যখন হিমাঙ্কের ২০ ডিগ্রি নিচে নেমে যায়, তখন মানুষ মাটির ওপর থেকে সোজা চলে যায় মাটির নিচে। সেখানে আছে 'পাথ' বা 'রেসো' নামের বিশাল ভূগর্ভস্থ শহর। অফিস, কেনাকাটা, আড্ডা—সব চলে মাটির নিচে। বাইরের হাড়কাঁপানো শীত সেখানে কোনো বাধাই নয়।
অন্যদিকে কাতারের চিত্র ঠিক উল্টো। গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এই প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে সেখানে তৈরি হয়েছে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম 'বন'। দোহার গেওয়ান দ্বীপে 'ক্রিস্টাল ওয়াক' নামের এই পথে হাঁটলে মনে হবে না আপনি মরুভূমির দেশে আছেন। মাথার ওপর কৃত্রিম ডালপালা আর ক্রিস্টালের ছাদ রোদ আটকে দেয়।
নামিবিয়া বিশ্বের অন্যতম শুষ্ক দেশ। কিন্তু সেখানেও এখন তৈরি হচ্ছে বিশ্বমানের ওয়াইন। নামিব মরুভূমির প্রান্তে নিউরাস ওয়াইন এস্টেট জালের নিচে আঙুর চাষ করছে। বাবুন বা বানরের হাত থেকে ফসল বাঁচাতেই এই ব্যবস্থা।
পোল্যান্ডের সিয়াজ দুর্গ দেখলে মনে হবে রূপকথার কোনো ছবি। কিন্তু বারোক স্থাপত্যের এই দুর্গের নিচেই আছে নাৎসিদের তৈরি বিশাল এক গোপন সুড়ঙ্গ বা কমপ্লেক্স। কথিত আছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লুট করা সোনাভর্তি একটি ট্রেন নাকি এখানে লুকানো ছিল। আজও তা রহস্যঘেরা।
সেখান থেকে চার ঘণ্টার পথ পেরলেই ক্রাকো শহরের কাছে মিলবে ঐতিহাসিক ওয়িলিকজকা লবণ খনি। ১৯৭৮ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়। মাটির নিচে ১৫০ মাইলের বেশি সুড়ঙ্গ। পর্যটকেরা চাইলে এখানকার লোনা দেয়ালে চেটে দেখতে পারেন!
হলিউড তারকা রবার্ট ডি নিরো ও তাঁর সহযোগীরা ইউরোপজুড়ে 'নোবু' হোটেল চেইনের ব্যবসা বাড়াচ্ছেন। রোমেও তাঁরা নতুন শাখা খুলেছেন।
তবে ধনীদের নতুন পছন্দ এখন তুরস্কের বোড্রাম উপদ্বীপের 'প্যারাডাইস বে'। এখানে ভিলা মাচাকিজির মতো জায়গায় এক রাত থাকতেই খরচ হতে পারে প্রায় ৫০ হাজার ডলার (প্রায় ৬০ লাখ টাকা)। যা চাইবেন, যেভাবে চাইবেন—সবই হাতের মুঠোয় এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এখানকার ব্যবস্থাপকরা।
লন্ডনের টিউব রেলে সাধারণত খাওয়া নিষেধ। কিন্তু ভিক্টোরিয়া লাইনের একটি পুরোনো অকেজো বগিতেই গড়ে উঠেছে রেস্তোরাঁ 'সাপারক্লাব ডট টিউব'। ৩৬ জন অতিথি সেখানে বসে আয়েশ করে খেতে পারেন। পুরোনো দিনের ট্রেনের সিটে বসে এমন ভোজ ভোজনরসিকদের জন্য নিঃসন্দেহে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা।
