মাঝ পথে চলে গেলেন চট্টগ্রামের কোচ, বদলে গেল অধিনায়কও
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে (বিপিএল) সামনে রেখে জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করে জার্সি উন্মোচন করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। পরের দিন টিম মিটিংয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে অধিনায়কের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয় বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। মিরাজের নেতৃত্বে চারটি ম্যাচ খেলে চট্টগ্রাম। কিন্তু হঠাৎ-ই মিরাজকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। শনিবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে অধিনায়ক হয়ে মাঠে নামলেন নাঈম ইসলাম।
কেবল অধিনায়কত্বে পরিবর্তনই নয়, চট্টগ্রামের প্রধান কোচ পল নিক্সনও ইংল্যান্ড ফিরে গেছেন। পুরো বিপিএলের জন্য চুক্তি হলেও শুক্রবার দেশের উদ্দেশে রওনা দেন ইংলিশ এই কোচ। পল নিক্সনের চলে যাওয়া ও অধিনায়কত্বে পরিবর্তনের বিষয়টি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের চিপ অপারেটিং অফিসার সৈয়দ ইয়াসির আলম।
ইয়াসির জানান, নিক্সনের সঙ্গে পুরো মৌসুমেরই চুক্তি হয় চট্টগ্রামের। কিন্তু কাউন্টি ক্লাব লেস্টারশায়ারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে চুক্তি থাকায় তাকে ফিরতে হচ্ছে। তিনি বলেন, 'লেস্টারশায়ার ক্লাব থেকে নিক্সনকে জরুরি ভিত্তিতে ডেকে পাঠিয়েছে। যদিও সে পুরো মৌসুমই থাকতে চেয়েছিল। এর আগে সে আসতেই পারতো না। লেস্টারশায়ারের সঙ্গে কথা বলে তাদের মানিয়ে নিক্সন এসেছিল। কিন্তু ওখানে প্রাক-মৌসুম শুরু হচ্ছে, আর লেস্টারশায়ারে নিক্সন পূর্ণ মেয়াদে চাকরি করেন। এ কারণে যে যেতে বাধ্য হয়েছে।'
বোলিং কোচের দায়িত্ব থাকা অস্ট্রেলিয়ান সাবেক পেসার শন টেইট প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন জানিয়ে ইয়াসির বলেন, 'বোলিং কোচ শন টেইট এখন আমাদের প্রধান কোচ। টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা কোনো পরিবর্তন আনছি না এখানে। চলে গেলেও নিক্সন জুমে আমাদের সঙ্গে প্রতিদিনই যোগাযোগ রাখছেন। আমাদের গ্রুপেও আছেন তিনি। তিনি নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন, সবকিছু ঠিকভাবেই চলছে।'
মিরাজকে সরিয়ে নাঈমকে অধিনায়ক করার কারণ হিসেবে ইয়াসির বলেন, 'যাওয়ার আগে সবকিছু বিবেচনা করে তিনি আমাদেরকে একটা পর্যবেক্ষণ দিয়ে গেছেন। তিনি জানিয়েছেন কীভাবে দল চলা উচিত। অধিনায়ক হিসেবে তিনি নাঈম ইসলামের নাম সুপারিশ করে গেছেন। আমাদের বোলিং কোচ, অ্যানালিস্ট, ম্যানেজারকে নিয়ে তিনি মিটিং করেন। মিটিং করার পর পর্যবেক্ষণের কথা জানান।'
'নিক্সনের মতে মিডল অর্ডারে মিরাজের চাপটা বেশি হয়ে যাচ্ছিল। ওখানে সে রান করতে পারছিল না। ইংলিশ কোচ হিসেবে তার একটা চাওয়া ছিল, বিশেষ করে স্ট্রাইক রেট নিয়ে সতর্ক তিনি। মিরাজের চাপ কমাতে নিক্সন এমন পরামর্শ দিয়ে যান।' যোগ করেন ইয়াসির আলম।
মিরাজের নেতৃত্বে চার ম্যাচে দুটি জয় পায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। চার ম্যাচে ৮ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে ৭০ রান করেন ডানহাতি এই অলরাউন্ডার। প্রথম ম্যাচে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে হেরে গেলেও বল হাতে দারুণ করেন মিরাজ, ৪ ওভারে ১৬ রানে নেন ৪টি উইকেট। একটি ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকার পর শেষ দুই ম্যাচে ২টি করে উইকেট পান তিনি। তবে মিডল অর্ডারে মিরাজের কাছে যেমন চাওয়া দলের, সেটা পূরণ করতে পারছেন না তিনি। এ কারণে অধিনায়ক থেকে সরিয়ে নির্ভার মিরাজের কাছ থেকে আরও ভালো ব্যাটিং চায় চট্টগ্রাম।
