নিজের ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন তামিম, জানাবেন পরে
গত জুলাইয়ে ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের মাঝে হঠাৎ-ই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তামিম ইকবাল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে দুদিন পরই ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিছুদিন পরে ছাড়েন ওয়ানডের অধিনায়কত্ব। বিশ্বকাপে খেলার কথা থাকলেও চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত খেলা হয়নি অভিজ্ঞ এই ওপেনারের। কবে ফিরবেন তামিম, আদৌ ফিরবেন কিনা; এ নিয়ে আলোচনা আছে।
এর মাঝে কদিন আগে স্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তামিম। কী কারণে এই সাক্ষাত, তা নিয়ে সাবেক এই অধিনায়ক কিছু জানাননি। এবার তিনি দেখা করলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হোসেন পাপনের সঙ্গে। অনেক কিছু নিয়ে আলোচনার পর নিজের ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন তামিম, যদিও সেটা এখনই জানাচ্ছেন না তিনি। সোমবার বনানীতে নিজ বাসায় সংবাদমাধ্যমকে বলা তামিমের পুরো বক্তব্য তুলে ধরা হলো-
"বিশ্বকাপের পর আমার ভবিষ্যৎ কী হবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, এটার পরিষ্কার একটা সিদ্ধান্ত আসা উচিত ছিল বলে আমার কাছে মনে হয়। আমি বেশ কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলাম, এই মিটিংটা করার কথা ছিল আরও কয়েকটা দিন আগে। মিটিংটা কাল হওয়ার কথা ছিল। নমিনেশনের কারণে আজ এটা শিফট হয়েছে, যেটা খুব ভালো দিন নয়। কারণ কাল থেকে টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে। দুর্ভাগ্যবসত এমন হয়েছে।
আর আজকের মিটিংয়ের পর একটা বিবৃতি আসাটাও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই আজকের দিনটা। আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি খেলার একদিন আগে হচ্ছে বলে। বাংলাদেশ দল এবং আমার জন্য এটা গুরুতদ্বপূর্ণ যে এটা প্রভাব খেলায় না পড়ুক। আমার ভবিষ্যত নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত আমি অবশ্যই নিয়ে ফেলেছিলাম। এটা এই মুহূর্তে বলার দরকার নেই, কমবেশি আপনারা সবাই জানেন, বুঝতে পারেন। আমার একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিল। আমি ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়ালদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অপেক্ষায় ছিলাম।
তো আজ যখন আমার সভাপতির (নাজমুল হাসান) সঙ্গে কথা হয়, আমরা অনেক কিছু নিয়েই আলাপ করেছি। আমার কী কী সমস্যা বা কী হয়েছে, এসব নিয়ে কথা হয়েছে। আমাদের খুবই খোলামেলা কথা হয়েছে। উনার অবশ্য অনেক কিছু শেয়ার করার ছিল, উনিও শেয়ার করেছেন। আমি উনাকে বলেছি আমি কী করতে চেয়েছি, কী করতে চাই। তারপর উনি যে জিনিসিটা বললেন, যেহেতু আপনারা জানেন আমাদের নির্বাচন সামনে, উনার ব্যস্ততাও সামনে, জানুয়ারি পর্যন্ত (পাপন) আমাকে থামতে বলেছেন।
আমি নিশ্চিত উনার সংবাদ সম্মেলনেও উনি একই কথা বলেছেন বলেছেন। দেখা যাক কী হয়, আমি হয়তো বিপিএল থেকে আমার ক্রিকেট খেলাটা শুরু করব। শুরু করার পর আমি নিশ্চিত আপনারা পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যাবেন কী হচ্ছে না হচ্ছে। আবার একই কথা বললাম যে, কোনো সময়ই এই জিনিসটা করব না, করতে চাইও না যে আরেক মাস সময় নিই, অপ্রোয়জনীয়ভাবে জিনিসটাকে টেনে বড় করি। বোর্ড এবং সভাপতির সঙ্গে অনেক কিছু নিয়ে আলোচনার পর আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। যেহেতু উনারা একটা কথা বলেছেন, আমারও সেটা সম্মান করা উচিত।
আমরা জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করব, বিপিএল খেলব, এরপর দেখা যাক কী হয়। এরপর আমরা আবারও আলোচনা করব। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে জিনিসটাকে বড় করব না। আমার কী পরিকল্পনা, আজই আমি জানাতে পারতাম। যেহেতু একটা আলোচনা হয়েছে এবং উনি এটাও বলেছেন, আমার একটা কথা শুনে উনি সিদ্ধান্ত নেবেন না। উনি সবার কথা শুনবেন এবং কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নেবেন। আমি সেটার জন্য অপেক্ষা করে দেখব কী হয়, এরপর আমরা দেখতে পারব।
আমি আবার বলছি, আমি আশা করি আমার বিবৃতি বা এখানে যা বলছি, সেটার কোনো ধরনের প্রভাবই না পড়ুক বাংলাদেশ দলে। কারণ আমি হয়তো খেলছি না, কিন্তু ওটা এখনও আমার দল। এবং আমি তাদের জন্য শুভকামনা জানাই। আশা কারি এই মুহূর্তে কী অবস্থা বা আমার কী অবস্থান, সেটা আমি পুরোপুরিভাবে পরিষ্কার করতে পেরেছি। আমি যেটা বললাম বিপিএল থেকে খেলা শুরু করব। এরপর কী আসে দেখা যাক।"
