অবসরের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিলেন তামিম, ফিরবেন এশিয়া কাপে
অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তামিম ইকবাল। অবসরের জায়গায় এক মাসের 'মানসিক বিশ্রাম' নিচ্ছেন তিনি। এরপর আবারও ফিরবেন জাতীয় দলের হয়ে খেলতে। এশিয়া কাপে হবে তার ফেরার মঞ্চ।
আজ গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন তামিম। সঙ্গে ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপেই অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তামিম। এক মাস মানসিক বিশ্রামের পর আবারও খেলায় ফিরবেন তিনি।
গতকাল সংবাদ সম্মেলন ডেকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন তামিম। যা সবার কাছে বিস্ময়ের ছিল। একদিনের ব্যবধানেই সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলেন তামিম।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার মাধ্যমে তামিমকে গণভবনে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাশরাফি, বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন এবং তামিমের স্ত্রী।
গণভবনে বেশ কিছুক্ষণ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন তামিম। সেখান থেকে বের হয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন তিনি। তামিম বলেন, 'আজ দুপুরবেলায় আমাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার বাসায় দাওয়াত করেছিলেন। উনার সঙ্গে অনেকক্ষণ আমরা আলোচনা করেছি। উনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন খেলায় ফিরে আসতে। আমি আমার রিটয়ারমেন্ট এই মুহূর্তে তুলে নিচ্ছি। কারণ আমি সবাইকে না বলতে পারি, কিন্তু দেশের যে সবচেয়ে বড় ব্যক্তি তাকে না বলা আমার পক্ষে অসম্ভব।'
নিজের সিদ্ধান্ত বদলানোর পেছনে মাশরাফি এবং নাজমুল হাসান পাপনের ভূমিকাও স্বীকার করেছেন তামিম। সেইসঙ্গে তিনি কবে ফিরবেন সেটিও জানান, 'অবশ্যই পাপন ভাই ও মাশরাফি ভাইয়ের বড় ভূমিকা ছিল। মাশরাফি ভাই আমাকে ডেকে নিয়েছেন। পাপন ভাই সাথে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে এক মাসের জন্য একটা ছুটিও দিয়েছেন। আমি যেন মানসিকভাবে আরেকটু ফ্রি হতে পারি।'
গত রাতে সংবাদমাধ্যমকে তামিমের অবসর নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। তিনি বলেছিলেন, তামিমের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তারা কেউই জানতেন না। এবং এই সিদ্ধান্তে তারা খুশি নন।
আজ তামিমের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পর পাপন বলেন, 'আমার একটা ধারণা হয়েছিল ওর (তামিমের) প্রেস কনফারেন্সটা দেখে, হয়তো আবেগ থেকে সিদ্ধান্তটা নিয়েছে। আমার একটা বিশ্বাস ছিল, ওর সঙ্গে যদি সামনাসামনি একবার বসতে পারি তাহলে হয়তো এটার একটা সমাধান পাবো। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে আমরা সবাই ওর সঙ্গে বসেছিলাম এবং ও আপনাদের সামনেই বলে গেল, সে যে অবসরের চিঠিটা দিয়েছে সেটা সে প্রত্যাহার করছে। সে অবসর নেয় নাই।'
