সতীর্থদের নিয়ে ‘পাগলের মেলায়’ পঞ্চপাণ্ডব
মাঠে যখন প্রতিপক্ষ, তখন কোনো ছাড় নয়। কিন্তু ম্যাচ শেষ হলেই তারা সতীর্থ। কেউ বন্ধু, কেউ ছোট ভাই, কেউ বড় ভাই, কেউ আবার আদর্শ। শেকড় যে একই। মাঠের বাইরে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বন্ধন কতোটা দৃঢ়, সেটা দেখার সুযোগ মিললো ক্রিকেটভক্তদের। সতীর্থদের নিয়ে 'পাগলের মেলায়' হইচইয়ে মেতে উঠলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের পঞ্চপাণ্ডব।
মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ; জাতীয় দলের এই পাঁচ ক্রিকেটারের গানের সুরে তাল মিলিয়ে নৃত্যেও গা দোলালেন বাংলাদেশের বিভিন্ন বয়সের এক ঝাঁক ক্রিকেটার। যেখানে পাগলাটে নাচে মগ্ন দেখা গেল বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকেও। যা রীতিমতো সাকিবের স্বভাববিরুদ্ধই। ক্যামেরার সামনে এমন সাকিবকে আগে কখনই দেখা যায়নি।
চলমান বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের পাঁচ দলের ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফদের হোটেল সোনারগাঁওয়ে জৈব সুরক্ষা বলয়ে রাখা হয়েছে। আজ শুক্রবার রাতের খাবারের পর হোটেল সোনারগাঁওয়ের সুইমিং পুলের পাশে একত্রিত হয়ে হই-হুল্লোড় করেছেন পাঁচ দলের ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফরা। যেখানে মাইক্রোফোন হাতে মাশরাফি, মাহমুদউল্লাহদের পারফর্মার হয়ে উঠতে দেখা গেল। মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করা এসব মজার মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকেও পোস্ট করেছেন মাশরাফি।
মাশরাফি, মাহমুদউল্লাহ ছাড়াও ক্রিকেটারদের এই মিলন মেলায় আরও কয়েকজন পারফরর্মার ছিলেন। মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর কোচ সারওয়ার ইমরান গান গেয়েছেন। তার গানের তালে তালে নেচেছেন গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। একটি গানে একত্রিত হয়ে নাচতে দেখা বিশ্বজয়ী যুব দলের ক্রিকেটারদেরও। তবে আড্ডা বেশি জমেছে পঞ্চপাণ্ডবের নাচ-গানে।
একটি ভিডিওতে দেখা যায় উচু জায়গায় দাঁড়িয়ে মাইক্রোফোন হাতে গান গাইছেন মাশরাফি ও মাহমুদউল্লাহ। পাশে দাঁড়িয়ে মুশফিক, তামিম ও সাকিব। নিচে তখন বাকি ক্রিকেটাররা ফোন হাতে ভিডিও করায় ব্যস্ত। মাশরাফিদের গান শেষ হওয়ার আগেই সাকিব বলে ওঠেন, 'এমন গান ধরেন, যা সবাই গাইতে পারি।' এটাই শুনেই মাশরাফি গাইতে শুরু করেন, 'বাবা তোমার দরবারে সব পাগলের মেলা'। বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় এই গান গেয়ে উঠতেই হই-হুল্লোড় করে সবাই তাতে সুর মিলিয়ে নাচতে শুরু করেন।
মাইক্রোফোন হাতে বিনোদন যোগানো মাশরাফি নিজেও যে অনুজদের সঙ্গে কাটানো সময় উপভোগ করেছেন, সেটা তার ফেসবুক পোস্ট দেখেই বোঝা গেছে। বর্তমানে দলের সবচেয়ে সিনিয়র এই ক্রিকেটার নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, 'ভালো লাগা ভালোবাসা এক নয়। কোচ, ফিজিও, ট্রেইনার, কম্পিউটার অ্যানালিস্ট, ম্যানেজার, টিম বয়, ম্যাসিওর, সব খেলোয়াড়, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দল, বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ, সবার জন্য ভালোবাসা।'
ক্রিকেটারদের উৎসবমুখর এই পরিবেশ ভেঙেছে রাত ১০টারও পরে। বিশেষ কোনো পরিকল্পনা বা আয়োজন ছিল না। রাতের খাবারের পর নিজেদের উদ্যোগেই উপস্থিত এই বিনোদন পর্বের আয়োজন করেন ক্রিকেটাররা। এক ক্রিকেটার বললেন, 'দারুণ সময় কেটেছে। সিনিয়র ভাইরা এভাবেই আমাদের মাতিয়ে রাখেন। আর মাশরাফি ভাই তো সবখানেই পারফর্মার। উনি যেকোনো কথা বললেই আমরা হাসতে থাকি। অসাধারণ মুহূর্ত ছিল।'
