কাতার মিশনে সেরার মুকুট ধরে রাখতে পারবে ফ্রান্স?
বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে বেশ বড়সড় একটা ধাক্কা খেয়েছে ফ্রান্স। সদ্যই ব্যালন ডি'অর জেতা করিম বেনজেমা চোটের জন্য ছিটকে গেছেন দল থেকে। বেনজেমাকে ছাড়াই নিজেদের বিশ্বকাপ শিরোপা রক্ষার মিশনে নামতে হবে ফ্রান্সকে।
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ২০ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ফ্রান্স। এমবাপ্পে-পগবা-কান্তেদের সোনালি প্রজন্মের হাত ধরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব ফিরে পায় তারা। প্রশ্ন হল, কাতারে কী নিজেদের এই মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে ফ্রান্স? নাকি আগের তিন বিশ্বকাপের মতোই 'চ্যাম্পিয়ন'স কার্স' আঘাত করবে 'লে ব্লুজ'দের?
এক নজরে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ রেকর্ডঃ
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ- ১৬ তম
সেরা অর্জন- চ্যাম্পিয়ন, ১৯৯৮ এবং ২০১৮
ম্যাচ রেকর্ড- ৩৪ জয়, ১৩ ড্র, ১৯ হার
গোল- ১২০
সবচেয়ে বড় জয়- ৭-৩, প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে
যার উপর নজর- কিলিয়ান এমবাপ্পে
ফিফা র্যাংকিং- ৪
কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সঃ
অস্ট্রেলিয়া (২২ নভেম্বর)
ডেনমার্ক (২৬ নভেম্বর)
তিউনিশিয়া (৩০ নভেম্বর)
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সঃ
ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। সর্বশেষ ৬ ম্যাচের মাত্র একটিতেই জিতেছে তারা। কিন্তু কাতারে সেটি ফ্রান্সের ফেভারিট হওয়ার পথে কোনো বাধা নয়। ফ্রান্সের এই দলে প্রতিভা এতোই বেশি যে যেকোনো ম্যাচে যেকোনো সময়ে ঘুরিয়ে দেয়ার সামর্থ্য তারা রাখে।
ইনজুরি সমস্যাঃ
ফ্রান্সের ম্যানেজার দিদিয়ের দেশমকে এবার ইনজুরির সাথে বেশ লড়াই করতে হচ্ছে। বিশ্বকাপের আগেই দলের দুই স্তম্ভ এবং অন্যতম সেরা দুই মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তে এবং পল পগবাকে হারিয়েছেন। বিশ্বকাপের দলে ডাক পাওয়ার পরেও দলের ক্যাম্প থেকে ইনজুরির জন্য বিদায় নিয়েছেন ইনফর্ম ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ান এনকুনকু। আবার গতকালই ইনজুরির জন্য দল ছেড়ে গেছেন তারকা স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা। এতসব কিছুর পরেও ফ্রান্স দলে যথেষ্ট রসদ আছে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।
বিশ্বকাপে প্রত্যাশাঃ
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে অবশ্যই ফেভারিটের তালিকায় থাকবে ফ্রান্স। এছাড়াও সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত তাদের রাস্তা অনেকটাই মসৃণ। গ্রুপ পর্বে ডেনমার্কের সাথে জিতলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত হবে ফ্রান্সের। বাকি দুই দল অস্ট্রেলিয়া এবং তিউনিশিয়া ধারে-ভারে আশেপাশেও নেই তাদের। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নক-আউট পর্বে পোল্যান্ড অথবা মেক্সিকোকে পাবে ফ্রান্স। যেটি জিততেও কোনো সমস্যা হওয়া উচিত না বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। কোয়ার্টাড়-ফাইনালে এসে ফ্রান্সের দেখা হয়ে যেতে পারে ইংল্যান্ড কিংবা নেদারল্যান্ডসের যেকোনো একটির সাথে। সেটি জিতে সেমি-ফাইনালে উঠে গেলে চ্যাম্পিয়ন না হতে পারারও কারণ নেই ফ্রান্সের জন্য।
তবে ফেভারিট হওয়া সত্ত্বেও গত তিন বিশ্বকাপের ভূত তাড়া করতে পারে ফ্রান্সকে। ২০০৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইতালির ২০১০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া, ২০১০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেনের ২০১৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পার না হতে পারা কিংবা ২০১৪ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানিরও ২০১৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ থেকে বিদায় নেওয়ার যে ধারা সেটি কাতারে ভাঙ্গাটাই ফ্রান্সের প্রথম চ্যালেঞ্জ। সেটি উতরে গেলে নক-আউট পর্বে ঘটতে পারে যেকোনো কিছুই। কে জানে, হতে পারে সেটি আরেকটি ফ্রেঞ্চ রূপকথা!
