ফিটনেস টেস্টে সাকিবের চমক
রাজত্বে ফিরেছেন রাজা; এক বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাকিব আল হাসানের মাঠে ফেরার পর্বে গণমাধ্যমে এমন শিরোনামই দেখা গেছে। ফেরার পর্বের শুরুটা আক্ষরিক অর্থেই রাজার মতো হলো বাঁহাতি এই অলরাউন্ডারের। বিপ টেস্টে রীতিমতো চমকই দেখিয়েছেন সাকিব। সাকিব বিপ টেস্টে ১৩.৭ তুলেছেন বলে জানিয়েছে বিসিবির একটি সূত্র। ফিটনেস টেস্ট দেওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ।
করোনাভাইরাসের লম্বা বিরতি শেষে বেশ আগেই মাঠে ফিরেছেন ক্রিকেটাররা। নিয়মিত অনুশীলন করে আসছেন সবাই। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপেও খেলার সুযোগ হয়েছে বেশ কিছু ক্রিকেটারের। এমন সময়ে ফিটনেস টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের ক্রিকেটার বাছাইয়ের জন্য।
জাতীয় দল ও হাই পারফরম্যান্স দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের ফিটনেসের অবস্থা দেখতেই এই ব্যবস্থা। কেবল ফিটনেস টেস্টে পাস করলেই টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবেন এসব ক্রিকেটার। সাকিব নিষেধাজ্ঞায় থাকায় তার ফিটনেস টেস্টও ছিল বাধ্যতামূলক। সোমবার দেওয়ার কথা থাকলেও বুধবার ফিটনেস টেস্ট দিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার।
সাকিবের ফিটনেস নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে। বিসিবি থেকে বলা হয়েছিল, ফিটনেস টেস্টে পার হতে পারলে তাকে টি-টোয়েন্টি লিগের জন্য বিবেচনা করা হবে। সাকিব নিজেও সন্দীহান ছিলেন তার ফিটনেস নিয়ে। জানিয়েছিলেন, ফিটনেস আগের অবস্থায় নেই। কিন্তু বিপ টেস্টে সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সাকিবই সবচেয়ে ভালো করেছেন।
যদিও বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনাহাজুল আবেদীন নান্নু বলছেন অন্য কথা। তিনি বলেছেন, 'সাকিব আল হাসান আজ ফিটনেস টেস্ট দিয়েছে। আমাদের স্ট্যান্ডার্ডের একদম কাছেই আছে। আমাদের ট্রেইনাররা যথেষ্ট সন্তুষ্ট ওর ফিটনেস নিয়ে। আমি আশা করছি যে খেলোয়াড়রা নিয়মিত উন্নতির মধ্যেই থাকবে ফিটনেসে, তাহলে সবার পারফরমেন্সে যথেষ্ট উন্নতি হবে।
সাকিবের ফিটনেস নিয়ে বিসিবির ফিটনেস ট্রেইনার তুষার কান্তি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'খুব ভালো অবস্থা সাকিবের। এর আগে সাকিবকে আমি এমন স্কোর গড়তে দেখিনি। কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়েছে সে। আমরা সবাই জানি ও অন্য ধাতুর গড়া। সাকিব-মুশফিকরা অন্য ধাতুর তৈরি। ওদেরকে দেখে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।'
ফিটনেস টেস্টে সর্বোচ্চ ১৩.৬ তুলেছেন বাঁহাতি পেসার মেহেদী হাসান রানা। এ ছাড়া স্পিনার নিহাদুজ্জামান ১৩.৪ তুলেছেন। বাঁহাতি রায়হান উদ্দিন পেয়েছেন ১৩.২। দুই ব্যাটসম্যান পিনাক ঘোষ ও রবিউল ইসলাম রবি তুলেছিলেন ১৩ করে।
