এক ম্যাচ জিতেই ইউরো মিশন শেষ রোনালদোর দলের
'দারুণ সমন্বয়ে গড়া এই পর্তুগাল অনবদ্য, এবারের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে পথটা দীর্ঘ হবে তাদের'; ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশকে নিয়ে অনেকেই এমন আশার কথা বলেছিলেন। কিন্তু শেষ ষোলোতেই থেমে গেল পর্তুগালের লড়াই। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে মাত্র একট ম্যাচ জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। তাদেরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলো বেলজিয়াম।
রোববার রাতে শেষ ষোলোর ম্যাচে সেভিয়ার লা কার্তুহায় পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়াম। দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন তোরগান হ্যাজার্ড। ১৯৮৪ সালের পর প্রথমবারের মতো ইউরোতে মাত্র একটি ম্যাচ জিতেই বিদায় নিতে হলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দলকে।
পুরো ম্যাচে পর্তুগালেরই আধিপত্য ছিল। কিন্তু সেই আধিপত্যে গোলের দেখা মেলেনি। ম্যাচে ৫৮ শতাংশ সময় বল পায়ে রাখেন রোনালদোরা। গোলমুখে শট নেওয়াতেও অনেক এগিয়ে ছিলেন তারা। তাদের নেওয়া ২৩টি শটের ৪টি ছিল লক্ষ্যে। বেলজিয়াম মাত্র ৬টি শট নয়, এর মধ্যে একটি ছিল লক্ষ্যে। ম্যাচে পর্তুগাল তিনটি কর্নার আদায় করলেও বেলজিয়াম কোনো কর্নার পায়নি।
শুরুতে বেলজিয়াম দাপট দেখালেও গুছিয়ে উঠতে সময় লাগেনি পর্তুগালের। প্রথমার্ধে সমানে সমান লড়াই হয়। ম্যাচের প্রথম সুযোগটি তৈরি করে পর্তুগাল। ষষ্ঠ মিনিটে ফাঁকায় বল পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে দিয়োগো জটা শট নেন। কিন্তু তার শটটি অনেক বাইরে দিয়ে চলে যায়।
২৫তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিক পায় পর্তুগাল। অসাধারণ একটি শট নেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ফেরান বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। পর্তুগালের আক্রমণ সামলে প্রথমার্ধের শেষ দিকে উল্লেখযোগ্য আক্রমণে সাজায় বেলজিয়াম। আর এই আক্রমণেই মিলে যায় সাফল্য।
৪২ তম মিনিটে তমা মুনিয়ের পাস থেকে বল পেয়ে একটুখানি আড়াআড়ি এগিয়ে জোরালো শট নেন তোরগান, তার শট পর্তুগাল গোলরক্ষক রুই পেত্রিসিওকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধেও চাপ ধরে রাখে পর্তুগাল। ৫৮তম মিনিটে দারুণ একটি আক্রমণ সাজায় তারা। কিন্তু রোনালদোর পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের মধ্য থেকে উড়িয়ে মারেন জটা।
বাকি সময়েও একচেটিয়া চাপ ধরে রাখে পর্তুগাল। আক্রমণও সাজায় তারা, কিন্তু গোল আদায় করে নিতে পারেনি দলটি। প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়া বেলজিয়াম রক্ষণ সামলে লিড ধরে রাখায় মনোযোগ দেয়। তাতে তারা সফল। বেলজিয়ানদের রক্ষণ চিড়ে জালের ঠিকানা করে নিতে পারেনি পর্তুগালের কেউ।
দল দারুণ কিছু করতে না পারলেও রোনালদো এবার বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়েছেন। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে দুটি রেকর্ড গড়েন তিনি। গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটি দখলে নেন রোনালদো। সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডও হয়ে যার তার।
এরপর ফ্রান্সের বিপক্ষে জোড়া গোল করে স্পর্শ করেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলি দাইয়ের ১০৯ গোলের বিশ্ব রেকর্ড। ইউরোতে ১৪টি গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সবার উপরে রোনালদো। ৯ গোল নিয়ে দুই নম্বরে ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার মিচেল প্লাতিনি।
ম্যাচের পর পর্তুগালের কোচ ফার্নান্দো সান্তোস জানান, অনেক খেলোয়াড়ই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, 'আমরা হতবাক এবং দুঃখিত। আমার দলের অনেক খেলোয়াড়ই ম্যাচের পর গ্রিনরুমে কান্নায় ভেঙে পড়ে। ওরা ম্যাচে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে। বেলজিয়াম গোটা ম্যাচে মাত্র ছ'টি শট নিয়েই গোল করে এবং আমরা ২৯ শট নিই, যার মধ্যে দু'টি পোস্টে লাগে। সত্যি বলতে আমার বলার কোনও ভাষা নেই।'
