ফুটবল: রং-তামাশা, হাসি-ঠাট্টা, পাগলাটে বা খ্যাপাটে ঘটনা
ফুটবল-পৃথিবী নামের আমাদের গ্রহের বর্তমান কালের অন্যতম সেরা ক্রীড়া হিসেবেই কেবল বিবেচিত হয় না। বরং এ ক্রীড়াকে কেন্দ্র করে বিপুল আর্থিক কর্মকাণ্ডও ঘটে বলে অনেকেই মনে করেন। দেড়শ বছরের কিছু বেশি সময়ের সুসংঘবদ্ধ ফুটবলের ইতিহাসে এসেছেন অনেক রেফারি, কোচ, পরিচালক, মালিক। আর রয়েছে খেলোয়াড়দের বিশাল বাহিনী। এই বিশাল ক্রীড়াকাণ্ডকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই ঘটেছে নানান কাণ্ডকারখানা, রং-তামাশা, হাসি-ঠাট্টা, কিংবা পাগলাটে বা খ্যাপাটে ঘটনা। এসবই ক্রীড়াটির ভাবমর্যাদাকে বাড়িয়েছে এমন দাবি করা যাবে না। তবে এসব ঘটনা অনিবার্যভাবেই হাসির খোরাক, বেদনার উৎস, অবাক করা বিষয়, অর্থহীন ঘটনা বা উদ্ভট ব্যাপারস্যাপার হয়েই ইতিহাসে জায়গা নিচ্ছে।
এখানে বিখ্যাত কবিতার একটু রদবদল করে হয়তো বলাই যায়, ঠিকানা নেই আগুপিছুর/কিছুর সঙ্গে যোগ না কিছুর, মহাকালের ফুটবলের এই ঠাট্টা!
তাজা বোমার ওপর ফুটবল খেলা!
বোমার ওপর ফুটবল খেলা চলেছে অর্ধ শতক ধরে! কল্পনা করতে পারেন, তাজা বোমার ওপর বল পেটানোর কাজটা চলেছে এক-দুই দিন না, পাক্কা ৫০ বছরেরও বেশি সময়। হাজার হাজার খেলোয়াড় খেলেছেন এ মাঠে। তারা কেউ ঠিক পেশাদার খেলোয়াড় ছিলেন না। কিন্তু পাকা খেলোয়াড় ছিলেনে অনেকেই। তারপর এল ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল। তখনই ঘটনাক্রমে জানা গেল, ইংল্যান্ডের সর্বদক্ষিণের সেই ডোরসেটের আইলস অব পোর্টল্যান্ডের ফুটবল মাঠটার তলায় রয়েছে আধাটনের বিশাল জার্মান বোমা। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় এ বোমা ফেলা হয়েছিল।
এ বোমা নিষ্ক্রিয়ের তৎপরতাকে শান্তির সময়ে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বোমা উদ্ধারের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বোমা সরানোর আগে দ্বীপটির চার হাজার অধিবাসীকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে হয়েছে। সেনাবাহিনীর বোমা অপসারণ বাহিনীর সদস্যদের টানা কয়েক ঘণ্টা তৎপরতার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত বোমাকে করে দেওয়া হয় অকেজো ।
অপহরণ এবং হত্যা
আজও কেউ জানে না, ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে সৌখিন ১০ ফুটবল খেলোয়াড়কে ভেনিজুয়েলা থেকে কেন অপহরণ করা হলো। এ খেলোয়াড়দের অধিকাংশই কলাম্বিয়ার নাগরিক। অস্ত্রধারী এক ব্যক্তি প্রত্যেক খেলোয়াড়ের নাম ধরে ডেকে ডেকে নেয়। ১২ জনের মধ্যে ১০জনকেই হত্যা করা হয়। ম্যানুয়েল করটেজ নামের এক খেলোয়াড়কে ঘাড়ে গুলি করার পর প্রাণে বেঁচে যান। আর বাকি একজনের আর কোনো খবর এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
করের কবলে ম্যারাডোনা
বিশ্বখ্যাত ফুটবলার ম্যারডোনা ইতালিতে খেলার পালা শেষ করার পর যতবারই সে দেশে গিয়েছেন, ততবারই কর বাবদ অর্থ তাকে গচ্ছা দিতে হয়েছে। ২০০৯ সালে ইতালিতে গেলেন ম্যারাডোনা। মানসিক পীড়নের চিকিৎসার জন্য সে সময় একটি ক্লিনিকে ওঠেন তিনি। বকেয়া করের আদায়ের জন্য পুলিশ সে ক্লিনিকে অভিযান চালায়। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত নেপোলির হয়ে খেলেছেন। সে সময় তার কর দেওয়া হয়নি। এই অভিযানের সময় পুলিশ ম্যারোডোনার হিরের কানের দুল জব্দ করে। পরে নিলামে সেই দুল ২৫ হাজার ইউরোতে বেঁচে দেওয়া হয়। এর আগে ২০০৬ সালে নেপোলি সফরের সময় পুলিশ জব্দ করে ম্যাডোনার দুটো রোলেক্স ঘড়ি, যার আনুমানিক মূল্য ১০ হাজার ইউরো।
বেকহামের ভ্রুপ্লাক কীর্তি
বিশ্বাস করুন, ডেভিড বেকহাম ভ্রুপ্লাক করেন। ফাঁস করেছেন তার স্ত্রী সাবেক মডেলকন্যা ভিক্টোরিয়া বেকহাম। ২০০৩ সালে জাপান সফরের সময় স্বামীর এ গোপন কথা ফাঁস করেন তিনি।
ফুটবল খেলা নিয়ে যুদ্ধ: নিহত ৬০০০
আল সালভাদর জাতীয় দলের হোটেল লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ার জেরে একটি যুদ্ধ বেধে যায়। এ যুদ্ধে প্রাণ হারায় ৬০০০ মানুষ। আহত হয় ১৫ হাজার। ঘরবাড়ি হারায় আরও হাজার হাজার আদমসন্তান। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ঘটনা। ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনায় জড়িত ছিল হন্ডুরাসের ফুটবলভক্ত ও অনুরাগীরা। তারাই এমন কাজের নীলনকশা করেন। উদ্দেশ্য ছিল, এতে আল সালভাদরের খেলোয়াড়েরা শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন না। ফলে জয় হবে তাদের প্রিয় দলের। সত্যিই ১-০ গোলে হেরে গেল আল সালভাদরের দলটি। এ দলের এক নারী ভক্ত ক্ষোভে-দুঃখে গুলি করে নিজ জীবন হনন করেন।
পরে সান সালভাদরে পাল্টা খেলতে গেলে এই নারী অ্যামেলিয়া বোলানিওসের মৃত্যুর বদলা নিতে কয়েকজন হন্ডুরাসবাসীকে হত্যা করা হলো। এ ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে বেধে গেল যুদ্ধ। চলল ১০০ ঘণ্টা। দুই দেশের হাজার হাজার নাগরিকের জন্য তা দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিল।
রোমারিও কার্টুন এঁকে প্রতিশোধ নিলেন
ব্রাজিলের দল থেকে রোমারিওকে বাদ দেওয়ার শোধ নিলেন রোমারিও কার্টুন এঁকে। রসিকতা এবং কর্তৃপক্ষের সাথে টানাপোড়েনের জন্য বিখ্যাত ফুটবল খেলোয়াড় রোমারিওর খ্যাতি রয়েছে। তিনি রিও ডি জেনারিওর নিজ স্পোর্টস বারের শৌচাগারকে বেছে নিলেন। এর দরজায় কার্টুন আঁকা হলো। 'বড় কাজ' করতে বসেছেন জাতীয় দলের ব্যবস্থাপক মারিও জাগালো। তার সহকারী জিকো পাশে দাঁড়িয়ে আছেন টয়লেট পেপার হাতে।
বেচারা ব্যবস্থাপকের আর যা-ই থাক, রসিকতা জ্ঞান মোটেও ছিল না। তিনি মামলা ঠুকে দিলেন। আদালত রোমারিওকে ওই কার্টুন সরিয়ে ফেলতে এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
ভায়াগ্রা দিয়ে বিজয়ের কোশেশ!
২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট বলিভিয়া খেলোয়াড়দের ভায়াগ্রা দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। বলিভিয়ার ব্লুমিং দলটি সাগরপৃষ্ট থেকে চার হাজার মিটার উচ্চতায় প্রতিপক্ষ দল আলটিপ্লানোর সাথে খেলতে যায়। ভায়াগ্রা সেবনে রক্তবাহী নালিগুলো প্রসারিত হয় এবং অক্সিজেন গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ে। তবে সে সময় খেলোয়াড়দের ভায়াগ্রা দেওয়ার কথা জোরের সাথেই অস্বীকার করা হয়। পরে চিকিৎসক নিজেই সে ঘটনা স্বীকার করেন। ভায়াগ্রাকে মাদক হিসেবে নিষিদ্ধ করা হবে কিনা, তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি।
আবার খেলতে হলো ২১ ম্যাচ
২০০৫ খ্রিষ্টাব্দের ব্রাজিলের ঘটনা। দুর্নীতিবাজ এক রেফারি দেশটির শীর্ষ ফুটবল ডিভিশনের ফলাফল বদলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বাজির অবৈধ ওয়েবসাইটের সাথে যোগসাজশে এ হীন কাজে নামেন তিনি। নগদ নারায়ণের বিনিময়ে কোনো কোনো দলকে জিতিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন রেফারি। এই 'ভদ্রলোক'কে ফুটবল থেকে আজীবনের জন্য বের করে দেওয়া হয়। তবে তার 'কৃতকর্মের' জেরে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আবারও খেলতে হয়। এতে শাপে বর হয়। নতুন করে খেলতে পারায় করিনথিয়ানস ব্রাজিলের লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়।
আচরণবিধি লঙ্ঘন—নিজেকেই বহিষ্কার করলেন রেফারি
রেফারি অ্যান্ডি ওয়েন অক্ষরে অক্ষরে ফুটবলের বিধি মেনে চলেছেন। খেলোয়াড়দের সাথে চরম মেজাজ খারাপ করার পর তিনি নিজেকেই বহিষ্কার করেন। ইংলিশ সানডে লিগের খেলায় রয়েল মেইল এওয়াইএল গোল দেওয়ার পর প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক প্রতিবাদ জানান। এর প্রতিক্রিয়ায় ওয়েন কড়া করে বাঁশি বাজালেন, তারপর নিজের শার্ট টেনে খুলে নিলেন। কড়া চোখে তাকিয়ে রইলেন 'অপরাধীর' দিকে। তারপর দর্শক এবং খেলোয়াড়দের বিস্মিত চোখের সামনে মাঠ ছেড়ে চলে গেলেন ওয়েন। তবে কোনো বদলি রেফারি না থাকায় খেলাটা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলো। ওয়েন পরে বলেন, কোনো খেলোয়াড় যদি একই আচরণ করতেন, তাকে মাঠ থেকে বের করে দিতাম। একই কাজ আমি আমার জন্যেই করেছি।
বন্ধুর জন্য
ইংল্যান্ডের সাবেক মিডফিল্ডার পল গ্যাসগকোইন তার বন্ধু রাউল মোটকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। সশস্ত্র মোটকে পুলিশ ঘিরে ফেলার পর এ চেষ্টা করেন তিনি। মোট যেন পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন, সে চেষ্টা চালান গ্যাসগকোইন। কিন্তু পুলিশ গ্যাসকোইনের কথা রাখেনি। তাকে মোটের কাছে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলো না। মোটের আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে এ ঘটনার শেষ হয়। সে সময় গ্যাসকোইন বলেন, মোট আমার বন্ধু ছিল, এ ঘটনায় আমার মন ভেঙে গেছে।
হেরে গিয়ে আবিষ্কার!
নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের অনুরাগী গ্লাডস্টোন অ্যাডামস গাড়ির উইন্ডস্ক্রিন ওয়াইপার আবিষ্কার করেন বলে বলা হয়ে থাকে। এই আবিষ্কারের পেছনের ঘটনা হলো, তার প্রিয় দল উলফসের কাছে ৩-১ গোলে হেরে যায়। ঘরে ফেরার পথে অ্যাডাম তুষার ঝড়ে পড়েন। বারবার গাড়ি থামিয়ে তুষার সাফ করতে করতে তিতা-বিরক্ত হয়ে ওঠেন অ্যাডাম। তখনই তার মাথায় খেলে যায় যান্ত্রিক ওয়াইপার বানানোর বিষয়টি।
ইউটিউবকে প্রচার বন্ধ করতে বাধ্য করলেন তিনি!
ফুটবল-নক্ষত্র রোনালদোর সাবেক স্ত্রী মডেলকন্যা ড্যানিলা সিকারিলি ব্রাজিলে ইউটিউবের প্রচার বন্ধ করে দিতে সক্ষম হন। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, ২০০৮-এ ঘটেছে এটি। স্পেনের সৈকতে তার এক পুরুষ বন্ধুর সাথে ঘনিষ্ঠতার দৃশ্য প্রচার করে ইউটিউব। এরই জেরে মামলা করলে ব্রাজিল ইউটিউবের প্রচার বন্ধ রাখার জন্য টেলিকম কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেয় আদালত। এ নিয়ে তৃতীয় দফা বিজয়ী হন রোনালদো দম্পতি। এর আগে ওয়েবসাইটে যতদিন ওই ভিডিও ছিল, সে থেকে দৈনিক হিসাবে ক্ষতিপূরণের দাবি করেছিলেন তারা। এ ভিডিও কোথা থেকে জোগাড় করা হয়েছে, সে তথ্য আজও প্রকাশ করা হয়নি।
খ্যাতির মাশুল—অপহরণ
ব্রাজিলের ফুটবল খেলোয়াড়েরা খ্যাতিমান হওয়ায় তার মাশুল গুনতে হয়েছে তাদের পরিবারকে। তারা অপরাধ চক্রের অপহরণের এবং পণবন্দী হিসেবে আটক রাখার ঘটনার শিকার হয়েছেন। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে রবিনহোর মা মারিয়া ডি সুজাকে অপহরণ করা হয়। সান্তোসে তার বাড়ির কাছেই এটি ঘটে। একমাস পরে মারিয়া মুক্তি পান। বলা হয় মুক্তিপণের অর্থ জোগান দেওয়ার পরই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাও পাউলোর স্ট্রাইকার গ্রাফিটি, পের্টোর স্ট্রাইকার লুইস ফ্যাবিয়ানো এবং ফিডিলিস রোজেরির মায়েদেরও একই বছর অপহরণ করা হয়। তারা সবাই নিরাপদেই মুক্তি পেয়েছিলেন।
অন্যদিকে এসি মিলানের স্ট্রাইকার রিকাডো অলিভেরিয়ার বোন মারিয়া ডি লোরডসকে অপহরণ করে পাঁচ মাস আটক করে রাখা হয় ২০০৭-এ। ব্রাজিলের ইতিহাসের দীর্ঘদিন অপহরণকারীদের হাতে আটক থাকার অন্যতম ঘটনা এটি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সাও পাওলোর একটি বস্তি এলাকা থেকে মারিয়াকে উদ্ধার করে পুলিশ। ৩৫ বছর বয়সী মারিয়া তখন অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় কাহিল হয়ে পড়েছিলেন। অপহরণকারীরা পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে নিরাপদে সটকে পড়তে পেরেছিল।
ফুটবল চলবে না!
ইতালির নামজাদা ফুটবল-নক্ষত্র রবারতো ব্যাজিও সৈকত-প্রহরীদের পাল্লায় পড়েছিলেন। ইতালির লিগুরিয়া অঞ্চলের একটি সৈকতে ফুটবল নিয়ে নানা কসরত দেখাচ্ছিলেন ছুটি উপভোগকারীদের। সে সময় বলা নেই কওয়া নেই, তার ফুটবল কেড়ে নেওয়া হলো। তাকে জানিয়ে দেওয়া হলো, সৈকতে ফুটবল চলবে না।
বিরতি: ভাঙা গোলবার সরাতে
খেলায় বিরতি দিতে হলো গোলপোস্টের ভাঙা ক্রসবার বদলানোর জন্য। ১৯৯৪-এর বিশ্বকাপে এমন ঘটনা ঘটেছে নিউ জার্সির জায়ান্টস স্টেডিয়ামে। এটি ঘটেছে বুলগেরিয়া বনাম মেক্সিকোর মধ্যে খেলার সময়ই।
সাগরপথে বিশ্বকাপে
প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩০-এ, উরুগুয়েতে। ইউরোপীয় কোনো দলই অংশ নিতে পারবে না বলে প্রথমে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ সময়ে ফ্রান্স, বেলজিয়াম এবং রোমানিয়া অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। দেশ তিনটি তাদের ফুটবল দলকে জাহাজযোগে পাঠিয়েছিল। অন্যভাবে পাঠানোর মতো পর্যাপ্ত সামর্থ্য না থাকায় তারা জাহাজ বেছে নিতে বাধ্য হয়।
১৯৯১-এ প্রস্তাব, ২০০১-এ হ্যাঁ!
ফরাসি খ্যাতিমান ফুটবল খেলোয়াড় জিদানের জীবনে তা-ই ঘটেছে। ২০০১-এ তিনি জুভেন্টাস ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন। কিন্তু তাকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল ১৯৯১-এ। এক সামাজিক অনুষ্ঠানে ন্যাপকিন এগিয়ে দিতে দিতে জিদানকে স্পেনের ধনকুবের ব্যবসায়ী এবং রিয়াল মাদ্রিদের পৃষ্ঠপোষক ফ্লোরেনটিনো পেরেজ বলেন যে তার রিয়াল মাদ্রিদে খেলার ইচ্ছা আছে কিনা!
নামে আপত্তি!
বিবিসির খ্যাতিমান ধারাভাষ্যকার কেনেথ হোলসটেনহোম একজন তুখোড় খেলোয়াড়ের পুরোনাম নিতে আপত্তি করেছেন। এভারটনের উইংগার মাইক টেরিবিলককের নামের শেষাংশে তার আপত্তি ছিল। ইংরেজিতে 'কক' শব্দটির একটি অশালীন মানে আছে, তাই তিনি এ নামটি উচ্চারণ করতে চাননি। ১৯৬৬ এফএ কাপ খেলায় জয়সূচক গোলটি এ খেলোয়াড় করার পর ধারাভাষ্যকার তাকে 'টিরিব্লিকো' হিসেবে উল্লেখ করেন। শেক্সপিয়ার যা-ই বলুন না কেন, নামেও সত্যিই কিছু যায় আসে!
রাজা হওয়ার প্রস্তাবে না!
নগ্ন মডেল, নক্ষত্র ক্রিকেট খেলোয়াড় এবং সাউদাম্পটনের ব্যতিক্রমী ফুটবলার সি বি ফ্রাইকে আলবেনিয়ার সিংহাসনে বসার অনুরোধ করা হয়েছিল। ২০ শতকের গোড়ার দিকে যখন তিনি তার পেশাগত জীবনের মধ্যগগনে রয়েছেন, তখন এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিনয়ের সাথে এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, রাজকীয় জীবনযাপন করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না।
অর্থ এবং পুরস্কারের কথা
কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের তাক লাগানো জয়ের পর বলা হচ্ছিল যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান দেশটির ফুটবল দলের সব সদস্যকে রোলস রয়েস গাড়ি উপহার দেবেন। অবশ্য পরে বলা হয়েছে, এ খবরের পেছনে সত্যতা নেই। কিন্তু এর আগে গোলদাতাকে রোলস রয়েস দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে নিজ গ্রুপ থেকে উতরে যায় সৌদি আরব। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ভাগ্য-নির্ধারণকারী গোলটি করেন সাইদ ওয়ারিয়ান। তাকে একটি রোলস রয়েস দেওয়া হয়েছিল।
২১ শতকেই ফুটবলেই কেবল অর্থ ও পুরস্কারের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে না। বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের অর্থসহ অন্যান্য পুরস্কার আগেও দেওয়া হয়েছে। কেবল অর্থ বা পুরস্কার নয়, ভিন্ন 'মুদ্রা'য়ও পুরস্কৃত করার চেষ্টা করেছে দুনিয়াজোড়া ক্লাবগুলো। ২০০৮-এ স্পেনের ওসাসুনা ক্লাবের খেলোয়াড়েরা পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন শুয়োর। অন্যদিকে এফসি কোপেনহেগেন বিজয় অর্জন করা মাত্রই খেলোয়াড়দের নীল ছবি দেখার আয়োজন করা হতো। তা-ও একটা নয়, দুই-দুইটা! ২০০৮-এ ইউইএফএ কাপ বিজয়ের পর জেনিথ সেইন্ট পিটার্সবার্গের প্রতি খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় ১৬ লাখ ডলার।
রেফারির 'কাইনঠামি' এবং প্রতিশোধ
২০০২ বিশ্বকাপে রেফারির 'কাইনঠামি' বা পক্ষপাতিত্বের কারণে ইতালির বিজয়ের স্বপ্ন বিবর্ণ হয়ে যায়। প্রতিশোধ হিসেবে শৌচাগার এলাকার নাম রাখা হয়েছে সেই রেফারি ইকুয়েডরের নাগরিক বায়রন মরিনোর নামে। এই এলাকাটি সিসিলির সানতা তেরেসা নদীর পারে অবস্থিত এবং এটি একটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত। মরিনো ইতালির একটি গোল বাতিল করেছেন, পেনালটির আবেদন নাকচ করেছেন এবং ফ্রান্সসিসকো টোট্টিকে মাঠ থেকে বের করে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে ইতালি।
বুট বনাম খালি পা
১৯৫০ বিশ্বকাপের ফাইনাল থেকে ভারতীয় দলের নাম প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ভারতীয় খেলোয়াড়েরা বুট পায়ে খেলতে অভ্যস্ত নন। কিন্তু বিনা বুটে তাদেরখেলতে দিতে অস্বীকার করে ফিফা। এরপর বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা আর দেখাতে পারেনি ভারত।
১৪৯—আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড!
মাদাগাস্কারের লিগ চ্যাম্পিয়ন এএস আডেমার খেলায় ২০০২-এ আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড গড়া হয়, এ পর্যন্ত যা কেউ ভাঙতে পারেনি। তবে এ জন্য প্রতিপক্ষ সেডড অলিম্পিক লেমরিনির সহায়তা নিতে হয়েছে। রেফারির আগের এক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবে লেমরিনি আত্মঘাতী গোলের প্লাবন বইয়ে দেয়।
৪ দিনেই বদলে যাওয়া!
২০০৯-এর ১ জুন এ সি মিলানের নক্ষত্র খেলোয়াড় কাকা বলেন, শেষবারের মতো বলছি আমি কোথাও যেতে চাই না। কিন্তু ব্রাজিলে জন্মগ্রহণকারী কাকা ২০০৯-এর ৬ জুন ৬ কোটি ৮৫ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন। এ অর্থ সে সময়ে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেছিল।
