টাইম ম্যাগাজিনের ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ গ্রেটা থানবার্গ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘টাইম’ ম্যাগাজিন সুইডেনের স্কুলছাত্রী ও পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গকে ‘পারসন অফ দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত করেছে।
‘টাইম' ম্যাগাজিন সম্পাদক এডওয়ার্ড ফেলসেন্থাল জানান, নতুন প্রজন্ম নেতৃত্ব দিলে পৃথিবীটা কেমন দেখায় সেটা সকলকে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য এবছর গ্রেটাকে নির্বাচন করা হয়েছে।
১৯২৭ সাল থেকে প্রতি বছর টাইম ম্যাগাজিন ‘পার্সন অফ দ্য ইয়ার' ঘোষণা করে। সর্বশেষ সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাসোগি ও মিয়ানমারে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিক টাইমের মলাটে স্থান পান।
টাইম ম্যাগাজিনের এবারের মলাট লেখা রয়েছে ‘তারুণ্যের শক্তি'। সেখানে গ্রেটা থানবার্গকে দেখা যাচ্ছে পর্তুগালের লিসবনে সৈকতে।
‘টাইম'-কে কিশোরী গ্রেটা বলেন, ‘আমরা এভাবে বেঁচে থাকতে পারি না যে, আগামীকাল বলে কিছু নেই। কেননা আগামীকাল রয়েছে। এটাই আমরা বলছি।’
প্রসঙ্গত, চলতি বছরে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে প্রায় ৬০ জন বিশ্ব নেতার উপস্থিতিতে আবেগঘন ও উত্তেজিত কণ্ঠে বক্তব্য রাখেন ১৬ বছর বয়সী কিশোরী গ্রেটা থানবার্গ। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যর্থতার জন্য বিশ্ব নেতাদের তীব্র ভাষায় নিন্দা করেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলা এ কিশোরী পরিবেশবাদীর ডাকে বিভিন্ন দেশের নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার প্রায় অর্ধকোটি মানুষ পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে জড়ো হয়েছেন।
“আপনাদের এত দুঃসাহস?”
এবছরের ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের (ইউএন) জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানের সময় এই কথা বলেন গ্রেটা। দৃপ্ত কণ্ঠে তিনি বিশ্ববাসীর উদ্দেশে বলেন “আপনাদের এত দুঃসাহস?”
এই পরিবেশকর্মী বলেন, “ফাঁপা অর্থহীন বুলি শুনিয়ে আপনারা আমার স্বপ্ন চুরি করেছেন, কেড়ে নিয়েছেন আমার শৈশব।”
“সারাবিশ্ব জুড়ে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। আমাদের পরিবেশ আর বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা মুখোমুখি হয়েছি এক বিপুল ধ্বংসের আর আপনারা কি না ছুটছেন টাকার পেছনে? অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ফাঁপা রূপকথার গল্প শোনাচ্ছেন আমাদের? আপনাদের এত দুঃসাহস?”
থানবার্গ এই সম্মেলনে উপস্থিত সবাইকে বলেন, “আপনারা কি করে ভাবলেন যে বাণিজ্য আর প্রযুক্তি দিয়ে আপনারা এই পরিস্থিতির সমাধান করতে পারবেন? এত দু:সাহস আপনাদের কি করে হয়? যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে সারা বিশ্ব জুড়ে, যে পরিমাণ কার্বন বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে, তা আর মাত্র ৮ বছরের মাথায় শেষ হয়ে যাবে। আর এই সংখ্যাগুলো, সত্যগুলো প্রকাশ করবার মতো সৎসাহস আপনাদের নেই।”
“আপনারা আমাদের ব্যর্থতায় পর্যবসিত করেছেন। কিন্তু তরুণ প্রজন্ম আপনাদের বিশ্বাসঘাতকতা ধরে ফেলেছে। আমি বলছি আমরা কখনো আপনাদের ক্ষমা করব না।”
এই ১৬ বছর বয়সী কিশোরী আরও বলেন, “সবকিছু বদলানো প্রয়োজন এবং আজ থেকে এই বদলানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। বিশ্ববাসী জেগে উঠছে। আর আপনাদের ভালো লাগুক বা না লাগুক- পরিবর্তন আসবেই।”
