পচে যাচ্ছে পেঁয়াজ, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুললো ভারত
ভারতীয় রন্ধনশৈলীর অন্যতম অনুষঙ্গ পেঁয়াজের দর নিয়ন্ত্রণে রপ্তানি বন্ধ করে গত বছর পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু, এসব পেঁয়াজ নিয়েই এখন ভোগান্তির মুখে দেশটি।
গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি নাগাদ আমদানিকৃত পেঁয়াজের ৯০ শতাংশ রাজ্য সরকারগুলো মান বিবেচনায় কিনতে অস্বীকার করে। ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য প্রিন্ট সংশ্লিষ্ট নানা সূত্রের বরাতে জানাচ্ছে এসব পেঁয়াজ এখন স্থানীয় বাজারে এখন কেজিপ্রতি ৬ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।
দেশটির সরকারের একটি প্যানেল মিটিং সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত সময়ে আমদানিকৃত পেঁয়াজের অধিকাংশই পচে যাওয়ার কারণেই রাজ্য সরকারগুলো এবং মাদার ডেইরির পণ্য পরিবেশক সংস্থা এসব পেঁয়াজ কিনতে অস্বীকৃতি জানায়। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসান দিয়ে হলেও পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
আমদানি করা পেঁয়াজ দেরিতে এসে পৌছানোর কারণেই তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশপাশি স্থানীয় জাতের পেঁয়াজ এখন বাজারে সহজলভ্য।
নভেম্বর-জানুয়ারি মেয়াদে পেঁয়াজের আমদানিমূল্য পড়েছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৮ রুপি। অর্থাৎ, প্রতি কেজিতে কেন্দ্রীয় সরকার ৪৬ থেকে ৫২ রুপি পর্যন্ত লোকসান দিচ্ছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের মোট ২শ' কোটি রুপি লোকসান হতে পারে।
এসব অবস্থার মাঝেই গত ২ মার্চ পেঁয়াজ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা জানায় দেশটি। প্রায় পাঁচ মাস পর পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে ভারত।
গত সোমবার ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা এক আদেশে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা জানায়। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এই নোটিশ দেওয়া হয়।
আগামী ১৫ মার্চ থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কার্যকর হচ্ছে। ন্যূনতম রপ্তানি মূল্যের যে শর্ত ছিল, সেটিও প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থাৎ ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এখন যেকোনো মূল্যে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবেন।
