কেজিতে ১০ টাকা বাড়ল পেঁয়াজের দাম
১০ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। যে পেঁয়াজ ঈদের দুই দিন আগে ছিল ৩৫ টাকা কেজি সেটা বেড়ে এখন হয়েছে ৪৫ টাকা কেজি। আর গরুর মাংসের দাম আগের মতোই চড়া। এখনও ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার রাজধানীর হাতিরপুল কাঁচাবাজার, কাঁঠালবাগান, কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, এসব বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় যা ১০ দিন আগে ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।
ঈদের পর প্রথম শুক্রবার তাই বাজারে ক্রেতা সমাগম বেশি ছিল। বিক্রেতারা বলছে যারা গ্রামে গিয়েছিল তারা রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে। তাই তাদের বিক্রি ভাল হচ্ছে।
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা দরে। তবে বেশিরভাগ খুচরা দোকানদার ৫০ টাকা দরে পণ্যটি বিক্রি করছেন। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরায়ও দাম বেড়েছে।
ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। দেশের পেঁয়াজচাষিরা যাতে ভালো দাম পায় সেজন্য পণ্যটির আমদানি অনুমোদন (আইপি) বন্ধ রেখেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে স্থানীয় বাজারেও সরবরাহ কিছুটা কম তাই দাম বেড়েছে বলে জানা গেছে।
তবে পাইকারি বাজারে তেমন দাম বাড়েনি পেঁয়াজের। শুক্রবার রাজধানীর সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের বাজার শ্যামবাজারে কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা দরে। যেটা ১০ দিন আগে ছিল ৩০ থেকে ৩২ টাকা।
শ্যামবাজার বণিক সমিতির সহসভাপতি আব্দুল মাজেদ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, পেঁয়াজের সরবরাহও প্রচুর। এখানে ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা দরে কেজি বিক্রি করছি। খুচরায় কেন এত দাম বেড়েছে বুঝতে পারছি না। ঈদের আগেও আমরা পাইকারি এমন দামেই বিক্রি করেছি।
কারওয়ান বাজারে খুচরা বিক্রেতা মেহেদি হাসান বলেন, ভারত থেকে আমদানি বন্ধ । তার উপর সরবরাহ কম, এ জন্য পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা বিক্রি করছি। আর ভারতের পেঁয়াজও ৪৫ টাকা।
কারওয়ান বাজারে পাইকারি ৪০ টাকা পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে।
ব্রয়লাম মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে
ঈদের দুই দিন পরে যে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ১৩০ টাকা ছিল সেই মুরগি এখন ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে । হাতিরপুল ও কাঠালবাগান বাজারে ব্রয়লার মুরগির প্রতি কেজি ১৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বিক্রেতার বলছেন , ক্রেতার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মুরগির দাম বেশি।
হাতিরপুল বাজারের বিক্রেতা সুজন হাওলাদার বলেন, ঈদের পরে রাজধানী ফাঁকা ছিল । অনেকে ছুটিতে গ্রামে গিয়েছিল। এখন তারা ঢাকায় এসেছে তাই চাহিদাও বেড়েছে। তার উপর লকডাউনের কারণে মুরগির সরবরাহ কম।
কারওয়ান বাজারে ১৪৫ টাকা কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করতে দেখা যায়। এ বাজারে সোনালী মুরগী ২৮০ টাকা, কক মুরগি ২৬০ টাকা, আর দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখে গেছে গরুর গোশত চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা কেজিতে ও খাশির গোশত ৯০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। ঈদের আগেও এ দামেই বিক্রি হয়েছে।
চালের বাজার
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজিপ্রতি পুরানো মিনিকেট চাল ৬৫, ব্রি-২৮ চাল ৫৫ এবং পাইজাম (মোটা) চাল ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিছু দোকানি নতুন চাল মিনিকেট ৬০ এবং ব্রি-২৮ চাল ৫২-৫৩ টাকা কেজি বিক্রি করছেন।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি বাজারে ব্রি ২৮ চালের দাম ৪৭ টাকা কেজি। মিনিকেট পুরান চাল প্রতি কেজি ৫৮ টাকা করে আর নতুন চাল ৫৫ টাকা কেজি।
কারওয়ান বাজারের মুক্তার রাইস এজেন্সির বিক্রেতা মোহাম্মদ শাহজাহান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, চালের বাজার ১০ দিন ধরে একই আছ। নতুন চাল এখনও পুরোপুরি বাজারে আসেনি। আসলে চালের দাম কমবে।
পাইকারি বাজারের সবজির দাম খুচরা বাজারে দ্বিগুণ
কারওয়ান বাজারে বেগুন পাইকারি প্রতি কেজি ১৬ থেকে ২০ , চিচিঙ্গা ১৫ , ঢেঁড়শ ১৫ টাকা বিক্রি হয়েছে। যা খুচরা বাজারে ৪০ টাকা করে কেজি বিক্রি হতে দেখা যায় । কারওয়ান বাজারে কাঁচা মরিচ পাইকারি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। কিন্তু খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।
মহম্মদ শহিদুল যশোর থেকে ৯০০ কেজি পটল এনে কারওয়ান বাজারে বিক্রি করেছেন। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে তিনি বলেন, ১৫ টাকা কেজি পটল পাইকারি বিক্রি করেছি। কাঁচামালের দাম একেকদিন একেক রকম। আজকে সকালে ১৩ টাকা কেজিও বিক্রি হয়েছে পটল।
হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগান বাজারে খুচরা প্রতি কেজি পটল ৪০, আলু ২৫ টাকা, করল্লা ৬০ টাকা, ঢেঁড়শ ৪০ টাকা, পেঁপেঁ ৫০ টাকা, শশা ৪০ , কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, শশা ৪০ টাকা, পেয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়।
রফিকুল ইসলাম এসেছেন হাতিরপুল বাজারে। তিনি বলেন, সবজি আমাদের অল্প প্রয়োজন হয়। দেখা যায় পাইকারি কিনতে গেলে পাঁচ কেজি করে কিনতে হয়। তাই দাম কম হলেও কারওয়ান বাজারে সবজি কিনতে যাওয়া হয় না। তবে সরকার যদি সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং করতো তাহলে পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের এত পার্থক্য থাকত না।
এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান টিবিএসকে বলেন, যে পণ্য পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা কেন সেই পণ্য এক মাইল দূরেই বিক্রি হবে ৩০ টাকা। এ নিয়ে একটা গবেষণা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে কৃষক প্রকৃত মূল্য পায় না। কিছিুদিন আগে দেখেছি কিভাবে ব্যবসায়ীরা তরমুজের দাম বাড়িয়েছিল। প্রতি কেজি তরমুজ ৭০ টাকা বিক্রি করেছিল। কৃষক কিন্তু কম দামেই তরমুজ বিক্রি করেছিল।
অন্যান্য পণ্য
হাতিরপুল বাজারে ভারতের রসুন কেজি ১৩০ টাকা, আর দেশি রসুন ৭০ টাকা, আদা ১০০ টাকা, খোলা চিনি ৭০ টাকা, সাদা প্যাকেট চিনি ৭৮ টাকা, লাল চিনি ৮৫ টাকা বিক্রি হয়েছে। তীর তেল পাঁচ লিটার ৬৫০ টাকা, বসুন্ধরা তেল পাঁচ লিটার ৬৪০ টাকা বিক্রি করতে দেখা যায়।
