ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় বাড়ানোর বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ঋণের কিস্তি পরিশোধে আরো সময় বাড়ানোর বিষয়ে ব্যাংক মালিকদের আবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংক যাচাই বাছাই করে দেখবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের দাবী বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার গভর্নর ফজলে কবিরের সাথে বৈঠক শেষে এসব কথা জানিয়েছেন, ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এর চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম মজুমদার।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে তিনি জানান, 'আমাদের আবেদনের বিষয়টি গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা শুনেছেন। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, আমাদের দাবীর বিষয়টি যাচাই বাছাই ও পর্যালোচনা করা হবে। আমাদের দাবীর প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ'।
গেল ৪ ফেব্রুয়ারি বিএবি কর্তৃক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বরাবর দেয়া চিঠিতে, মেয়াদী ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য আরো তিন বছর সময় বাড়ানোর দাবী জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে চলমান বা তলবি ঋণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোন নির্দেশনা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করে চিঠিতে বলা হয়, মোট ঋণের ৬৫-৭০ শতাংশই এই ধরনের ঋণ।
কোভিডের প্রভাবে এখনো ব্যবসা-বাণিজ্যে আগের মত গতি আসেনি। অন্যদিকে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ চলায় রপ্তানি বাণিজ্য শ্লথ।
এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ ব্যবসায়ী খেলাপি হয়ে যেতে পারে আশঙ্কা করে, চলমান ঋণের যে অংশ পরিশোধ হয়নি তা মেয়াদী ঋণ হিসেবে বিবেচনা করে তিন বছরের জন্য রিসিডিউল এর মাধ্যমে পরিশোধের সুবিধা দেয়ার দাবী জানানো হয়।
এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, 'আমরা বলেছি যাতে পেমেন্টটা আরো শিথিল করা হয়। এমন ভাবে শিথিল করতে হবে যাতে ব্যাংকেরও ক্ষতি হবে না আবার গ্রাহকও চাপে না পড়ে'।
তিনি বলেন, 'গেল বছর ব্যাংকগুলো ঋণের তেমন কোন কিস্তিই পায়নি। জানুয়ারি থেকে আবারো ঋণ শ্রেণিকরণ শুরু হচ্ছে, এতে এক একটি ব্যাংককে গ্রাহকদের ৭/৮ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে'।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় অনেক কাস্টমারই কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারবে না। এতে আবারো তারা খেলাপি হয়ে পড়লে এবং ব্যাংক ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে না।
এর ফলে ব্যবসায়ীদের করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। তাই একটি স্বাভাবিক নিয়ম করার দাবী জানানোর কথা বলেছেন বিএবি চেয়ারম্যান।
তবে কিস্তি পরিশোধে সময় বাড়ানোর বিষয়ে একমত নয় ব্যাংকের এমডিরা। গভর্নরের সাথে সম্প্রতি ব্যাংকার্স মিটিং এ তারা ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা না বাড়ানো এবং ঋণ শ্রেণীকরণ শুরুর পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ব্যাংকাররা সুবিধা বাড়াতে চায় না, বিষয়টি ঠিক নয়। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা না পেলে ব্যাংকের এমডিরা তখন কী করবে?
এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, 'আমরা চাই সহজ সরল নীতি, যাতে আরেকটু ছাড় পাওয়া যায়। এমডিরা হয়তো বলে না, কারণ তারা রেগুলেটরি বডির আন্ডারে থাকে'।
ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় বাড়ালে ব্যাংকগুলোর মুনাফার ওপর কোন প্রভাব পড়বে না উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম মজুমদার আশাবাদী, চলতি বছর শেষে হয়তো পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য কোভিডের প্রভাবে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে গেল বছর জুড়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করা ও ঋণ শ্রেণীকরণ বন্ধ রাখার সুবিধা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে করে নতুন করে খেলাপি বাড়েনি উল্টো গেল বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ মোট ঋণের ৮.৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
গেল ৩১ জানুয়ারি এক সার্কুলারে, চলতি বছর থেকে ঋণ শ্রেণীকরণ শুরু এবং মেয়াদী ঋণ (টার্ম লোন) ছাড়া অন্যান্য ঋণের ক্ষেত্রে কিস্তি পরিশোধ না করার সুবিধা বাতিল করা হয়।
টার্ম লোনের ক্ষেত্রে কিস্তি পরিশোধে আরো দুই বছর সময় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে যেসব ঋণের মেয়াদ কম সেগুলোর ক্ষেত্রে এই সময়সীমা বাড়িয়ে তিন বছর করার দাবী জানিয়েছে বিএবি।
