কুমিল্লা–১ ও ২ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বহালে দেওয়া হাইকোর্টের রায় স্থগিত
দাউদকান্দি–তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–১ আসন এবং হোমনা–মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–২ আসন আগের সীমানায় পুনর্বহাল করতে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও এক প্রার্থীর করা পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে রবিবার (১১ জানুয়ারি) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
আইনজীবীরা জানান, আপিল বিভাগের আদেশের ফলে নতুন নির্ধারণ করা সীমানা অনুযায়ী আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে, এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ৮ জানুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট। ঘোষিত রায়ে দাউদকান্দি–তিতাস উপজেলার পরিবর্তে দাউদকান্দি–মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–১ সংসদীয় আসন এবং হোমনা–মেঘনা উপজেলার পরিবর্তে হোমনা–তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–২ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ–সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেটের অংশবিশেষ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়।
একই সঙ্গে আগের মতো দাউদকান্দি–তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–১ আসন ও হোমনা–মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–২ আসন পুনর্বহাল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসিকে গেজেট প্রকাশ করতে বলা হয়।
হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে ইসি ও কুমিল্লা–২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এম মতিন আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন করেন।
আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী শুনানিতে ছিলেন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও আবদুল্লাহ আল মামুন।
এর আগে ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কুমিল্লা-১ আসন ছিল দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলা নিয়ে। আর হোমনা–মেঘনা উপজেলা নিয়ে ছিল কুমিল্লা-২ আসন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সীমানা পুনর্নির্ধারণ–সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। তাতে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–১ আসন এবং হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা–২ সংসদীয় আসন পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
গেজেটের এ–সংক্রান্ত অংশবিশেষের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহি উদ্দিনসহ ছয়জন গত বছর রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
এ মামলায় বিবাদী হিসেবে যুক্ত হন কুমিল্লা–২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এম মতিন ও মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা এম এ মিজানুর নামের এক ব্যক্তি। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৮ জানুয়ারি রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন হাইকোর্ট।
