ফাইনালে হারের পরও ‘ভদ্র ও শ্রদ্ধাশীল’ ফুটবলারদের প্রশংসা আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনা দলের আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা হলেও, দেশটির সংবাদমাধ্যম খেলোয়াড়দের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাদের দাবি, মাঠে ও মাঠের বাইরে আর্জেন্টিনা দল ছিল 'ভদ্র ও শ্রদ্ধাশীল'।
দেশটির শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ক্লারিন লিখেছে, 'শেষ ম্যাচে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ছাড়া লা আলবিসেলেস্তে ছিল ভদ্র ও শ্রদ্ধাশীল।'
পত্রিকাটির সম্পাদক সিলভিয়া ফেসকেত লেখেন, 'মাঠে ও মাঠের বাইরে আর্জেন্টিনা দল এমন কিছু মূল্যবোধের পরিচয় দিয়েছে, যা আজকাল খুব কমই দেখা যায়।' তিনি আরও বলেন, 'খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষ সম্পর্কে খারাপ কিছু বলেনি কিংবা নিজেদের ভুলের দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেনি।'
প্রতিদ্বন্দ্বী দৈনিক লা নাসিওনও পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনা দলের মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রশংসা করেছে।
পত্রিকাটির প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, 'চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও দলটি সবচেয়ে কঠিন অর্জনটি করেছে—মানুষের ভালোবাসা ও স্বীকৃতি।'
লা নাসিওনের ভাষ্য, আর্জেন্টিনা 'মাথা উঁচু রেখেই হেরেছে।' পত্রিকাটি আরও লিখেছে, খেলোয়াড়রা গলায় ঝোলানো রুপার পদক খুলে ফেলেননি, যা যথার্থই ছিল। কারণ, রানার্সআপ হয়েও তারা একটি 'গৌরবময় উত্তরাধিকার' রেখে গেছেন।
তবে ম্যাচ বিশ্লেষণে কোনো রাখঢাক করেনি পত্রিকাটি। প্রধান ক্রীড়া লেখক ক্লদিও মাউরি লিখেছেন, 'পুরো ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনা গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি।' তার মতে, স্পেনের দ্রুত ও ধারাবাহিক পাসিংয়ের ছন্দ আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত করে দেয়।
পত্রিকাটি অধিনায়ক লিওনেল মেসির কান্নার বিষয়েও আলাদা গুরুত্ব দিয়ে লিখেছে, 'আর্জেন্টিনা তোমাকে বুকে জড়িয়ে নেয়। ধন্যবাদ, লিও। তুমি আমাদের আগেই অসংখ্য আনন্দ দিয়েছ।'
বুয়েনস এইরেসভিত্তিক দৈনিক পাহিনা ১২ লিখেছে, পরাজয় সত্ত্বেও কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে এই দলের যাত্রা 'চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।'
পত্রিকাটি রসিকতার সুরে প্রশ্ন তোলে, আর্জেন্টিনার রক্ষণাত্মক কৌশল কি আসলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের 'সরল ও অরক্ষিত ফুটবলের' বিরুদ্ধে এক ধরনের 'ঘোষণাপত্র' ছিল?
তবে শেষ পর্যন্ত তারা লিখেছে, ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের পর পাঁচ বছর নয় দিনের 'পূর্ণ আধিপত্যের' জন্য কৃতজ্ঞ থাকার সময় এসেছে।
পত্রিকাটি শেষ করেছে এভাবে, 'এত আনন্দ উপভোগ করার পর এখন আবার রানার্সআপ হওয়ার আক্ষেপ আর কষ্ট নিয়ে বাঁচতে শেখার সময়।'
