প্যারাগুয়ের 'ডার্টি ফুটবল ট্যাকটিস' মোকাবিলা করে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স
মরক্কোর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে নিজের দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার আগে কিলিয়ান এমবাপ্পে বলেন, 'যদি আমাদের হাত নোংরা করতে হয়, তবে আমরা জানি সেটা কীভাবে করতে হয়। আমরা জানি কীভাবে ডার্টি ফুটবল খেলতে হয়। তারা (প্যারাগুয়ে) ভেবেছিল আমরা এখানে টাক্সিডো (অভিজাত পোশাক) পরে খেলতে এসেছি।'
প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়রা লাথি, ঘুষি, খোঁচা এবং নানাভাবে উসকানি দিলেও ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা কোনো মুহূর্তেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারাননি। উল্টো কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং তার সতীর্থরা দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিপক্ষের এই আচরণকে অবজ্ঞার চোখে দেখেছেন।
এই অদ্ভুত ম্যাচের সবচেয়ে স্মরণীয় দৃশ্য ছিল—ফরাসি খেলোয়াড়রা তাদের প্রতিপক্ষের ক্ষুব্ধ আচরণের প্রতিক্রিয়ায় স্রেফ হাসছিলেন।
জার্মানির বিপক্ষে রূপকথার মতো এক জয়ের পর প্যারাগুয়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলতে এসেছিল। অথচ ফিলাডেলফিয়ার প্রচণ্ড গরমের মধ্যে প্যারাগুয়ের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল, তারা মরিয়া হয়ে ফরাসি কোনো খেলোয়াড়কে লাল কার্ড খাওয়ানোর ফাঁদ পাতছে।
খেলার প্রথমার্ধের এক পর্যায়ে বল যখন মাঠের অন্য প্রান্তে, তখন প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গ্যালারজা যেন এমবাপ্পের বুকে ঘুষি মারার চেষ্টা করছিলেন। অন্য সময়ে গ্যালারজাকে জুল কুন্দের মুখে ধাক্কা দিতে দেখা যায়।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, পুরো ম্যাচে একটিও হলুদ কার্ড না দেখেই প্যারাগুয়ে এসব করে পার পেয়ে গেছে। উজবেক রেফারি ইলগিজ তানতাশেভের সহ্যক্ষমতা এই টুর্নামেন্টের অন্যদের চেয়ে স্পষ্টতই অনেক বেশি।
ফ্রান্সের মিডফিল্ডার রায়ান শেরকি বলেন, 'এই বিশ্বকাপে আমাদের জন্য এমন একটি ম্যাচ খেলা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যাতে সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া যায় যে ফরাসি দল যেমন সুন্দর ফুটবল খেলতে জানে, তেমনি যুদ্ধ করতেও জানে।'
দুর্বল দলকে (আন্ডারডগ) সবাই ভালোবাসে, তবে প্যারাগুয়ের মতো আচরণ করা দলকে কেউ পছন্দ করে না। ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে যখন এমবাপ্পে জয়সূচক পেনাল্টি কিক নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন প্রতিপক্ষ দল যতখানি সম্ভব চালাকি করার চেষ্টা করছিল। এ সময় প্যারাগুয়ের এক খেলোয়াড় গোপনে পেনাল্টি স্পটের মাটি বুট দিয়ে খুঁড়ে নষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন।
এমবাপ্পের সতীর্থ ওসমানে দেম্বেলে তা দেখে ফেলেন এবং হাসতে থাকেন৷ কারণ দেম্বেলে ভালো করেই জানতেন যে এসব নোংরা কৌশল এমবাপ্পের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। এসময় ফ্রান্সের অধিনায়ক গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
এটি ছিল চলতি টুর্নামেন্টে তার সপ্তম এবং বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ১৯তম গোল। ২০২৬ সালের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি এখন লিওনেল মেসির সমান এবং সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসির চেয়ে মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন।
প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক এমবাপ্পের ওপর এতটাই বিরক্ত ছিলেন যে, ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর তিনি তার পিঠ লক্ষ্য করে বল ছুড়ে মারেন।
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের ফাউল নিয়ে এতটাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন যে, খেলার শেষ মুহূর্তগুলোতে তার অধিনায়ককে সুরক্ষিত রাখতে দলের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই খেলোয়াড়কে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
