৫১৯ মিনিট গোল না খেয়ে ৩৬ বছরের পুরনো বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন
বিশ্বকাপের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় গোল না খাওয়ার রেকর্ড গড়েছেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে তিনি এই কীর্তি গড়েন। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার টানা চতুর্থ 'ক্লিন শিট'।
গত দুটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে উনাই সিমন টানা ৫১৯ মিনিট নিজের জালে কোনো বল জড়াতে দেননি। এর মাধ্যমে তিনি ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ওয়াল্টার জেঙ্গার ৩৬ বছরের পুরনো রেকর্ডটি ভেঙে দিলেন। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে টানা ৫১৭ মিনিট কোনো গোল হজম না করে রেকর্ডটি গড়েছিলেন জেঙ্গা।
অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের এই ২৯ বছর বয়সী গোলরক্ষক চলতি বিশ্বকাপে এখনো কোনো গোল হজম করেননি। শক্তিশালী স্প্যানিশ রক্ষণের কারণে তাকে এখন পর্যন্ত খুব একটা কঠিন পরীক্ষার মুখেও পড়তে হয়নি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তাকে একটি সেভও করতে হয়নি। অস্ট্রিয়া পাঁচটি শট নিলেও তার একটিও অন-টার্গেট ছিল না। পুরো টুর্নামেন্টে সিমনকে এখন পর্যন্ত মাত্র চারটি সেভ করতে হয়েছে।
ম্যাচ শেষে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, 'আমি তার জন্য গর্বিত। তাকে আমার পরিবারের সদস্য মনে হয়। তার সাফল্যে আমি খুশি।'
সিমনের সঙ্গে এই কোচের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০১৫ সালে এই কোচের অধীনেই ১৮ বছর বয়সী সিমন অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো জিতেছিলেন। ২০২৩ সালে দে লা ফুয়েন্তে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর সিমনই তার প্রধান ভরসা হয়ে ওঠেন।
ক্যাসিয়াসের রেকর্ডও পেছনে
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে সিমন স্পেনের হয়ে ইকার ক্যাসিয়াসের টানা গোলহীন থাকার রেকর্ডটিও ছাড়িয়ে যান। ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে ক্যাসিয়াস ওই রেকর্ড গড়েছিলেন। সিমনের এই রেকর্ড শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচ থেকে। এরপর মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচেও তিনি কোনো গোল খাননি। তবে ওই ম্যাচে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছিল স্পেন।
জয়ের কৃতিত্ব পুরো দলকে দিয়ে কোচ দে লা ফুয়েন্তে বলেন, 'এই জয়ে সিমনের বড় ভূমিকা ছিল। তবে এটি কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়। পুরো দল রক্ষণভাগের জন্য এক হয়ে কাজ করেছে।'
রিজার্ভ বেঞ্চে দুই তারকা গোলরক্ষক
দলে ডেভিড রায়া এবং জোয়ান গার্সিয়ার মতো তারকা গোলরক্ষক থাকা সত্ত্বেও সিমন নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন। রায়া টানা তিনবার প্রিমিয়ার লিগে 'গোল্ডেন গ্লাভস' জিতেছেন এবং আর্সেনালকে লিগ শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। অন্যদিকে গার্সিয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভা হিসেবে বার্সেলোনার মূল গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাদের দুজনেই এখন রিজার্ভ বেঞ্চে থেকে সিমনের খেলা দেখছেন।
নকআউট পর্বের পরবর্তী ধাপগুলোতেও সিমনই স্পেনের মূল ভরসা হয়ে থাকছেন।
