‘ভালো অভিনয় করছে’; ‘ওভার অ্যাক্টিংয়ের জন্য ৫০ পয়সা কাটা’: রিজওয়ানকে স্লেজিং টাইগারদের
সিলেটে চলা বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনে পাকিস্তানের ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাফসেঞ্চুরির সময় তাকে লক্ষ্য করে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের স্লেজিং করতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার পাকিস্তানের শেষ ইনিংস চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
রিজওয়ান যখন সালমান আলী আঘার সঙ্গে ক্রিজে ব্যাট করছিলেন, তখন বারবার খেলা ব্যাহত হচ্ছিল। বিশেষ করে সাইট স্ক্রিনের সামনে মানুষের নড়াচড়ার কারণে রিজওয়ানকে কয়েকবার খেলা থামাতে হয়, যা সাময়িকভাবে তার খেলায় ব্যাঘাত ঘটায়।
এ নিয়ে একপর্যায়ে বাংলাদেশের উইকেটকিপার লিটন দাসের সাথে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এতে খেলার পরিবেশ কিছুটা গরম হয়ে ওঠে এবং চতুর্থ দিনের খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে।
এই ঘটনার পরপরই মাঠ থেকে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে রিজওয়ানকে উদ্দেশ করে স্লেজিং করতে বা নানা মন্তব্য ছুড়ে দিতে শোনা যায়। এই মন্তব্যগুলো সরাসরি স্টাম্প মাইকে ধরা পড়ে।
খেলোয়াড়দের মন্তব্যের মধ্যে ছিল: 'ওর এই ওভারঅ্যাক্টিংয়ের জন্য ৫০ পয়সা কাটব!' এবং 'ও খুব ভালো অ্যাক্টিং করছে; সবাইকে এটাই শেখাতে চায়।' আরেকজন খেলোয়াড় মন্তব্য করেন: 'টিমে ওর জায়গা পাকা, এ জন্যই সে এত ওভারঅ্যাক্টিং করছে!'
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। মোহাম্মদ রিজওয়ান ৭৫ রানে অপরাজিত থেকে দলের আশা এখনো বাঁচিয়ে রেখেছেন। জয়ের জন্য তাদের আরও প্রয়োজন ১২১ রান।
অন্যদিকে তাইজুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দ্বিতীয় টেস্টে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরালো করেছে বাংলাদেশ। তার চার উইকেটের সুবাদেই মূলত পাকিস্তান দলে বড় ধরনের ধস নামে।
রিজওয়ান যখন মাটি কামড়ে পড়ে থেকে তার ১৪তম টেস্ট হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নিচ্ছিলেন, তখন সালমান আলী আঘাও তাঁর ১২তম প্রথম শ্রেণির হাফ-সেঞ্চুরি পূরণ করেন। এ সময় পাকিস্তান ২৫০ রানের কোটা পার হয়।
কিন্তু ১৩৪ রানের এই লম্বা জুটিতে ফাটল ধরান সেই তাইজুল ইসলামই। ১০২ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৭১ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলার পর সালমানকে বিদায় করেন তিনি।
এরপর হাসান আলী শূন্য রানে আউট হলে পাকিস্তান চরম বিপাকে পড়ে যায়। এটি ছিল তাইজুলের চতুর্থ উইকেট। ৮৩.২ ওভারে দলের রান তখন ৩০৪, এবং হাতে মাত্র ৩ উইকেট।
চতুর্থ দিনের শেষ ভাগে, ৮৬ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান ৭ উইকেটে ৩১৬। ক্রিজে ছিলেন রিজওয়ান (৭৫*) এবং সাজিদ খান (৮*)। ম্যাচ জিততে এখনো তাদের প্রয়োজন ১২১ রান।
