ভারত ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান, ২০৩১-এর আগে একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে বাংলাদেশ
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি পাকিস্তান খেলবে বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) জানিয়েছে, ২০৩১ সালের বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশে একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনে সম্মত হয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওপরও কোনো ধরনের জরিমানা বা শাস্তি আরোপ করা হবে না।
সোমবার এক্স-এ এক পোস্টে পাকিস্তান সরকার জানায়, 'ক্রিকেটের চেতনা রক্ষা ও বৈশ্বিক খেলাটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অংশগ্রহণকারী সব দেশের স্বার্থে' ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটি খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইসিসির প্রতিনিধি দল ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভির সঙ্গে বৈঠক করার পরই এই ঘোষণা এলো।
ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানকে অনুরোধ করেছিল শ্রীলঙ্কার
এর আগে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে ভারতের বিরুদ্ধে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি খেলার জন্য পাকিস্তানের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই অনুরোধ করেন।
দিশানায়েকে বলেন, 'শ্রীলঙ্কায় যখন চরম সন্ত্রাসবাদ চলছিল, তখন পাকিস্তান শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের পাশে পূর্ণ সমর্থন নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। পাকিস্তান অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়েছিল। সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান ক্রিকেট দল নিয়মিত শ্রীলঙ্কা সফর অব্যাহত রেখেছিল।'
পাক শাহবাজ শরীফও স্মরণ করেন, কঠিন সময়ে কলম্বো কীভাবে ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানে ক্রিকেট সচল রাখতে সহায়তা করেছিল। তিনি বলেন, 'সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা দল পাকিস্তান সফর বাতিল না করে এদেশের জনগণ ও ক্রিকেট ভক্তদের জন্য এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।'
পাকিস্তান সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়, শাহবাজ শরীফ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা শেষে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে তাদের 'চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত' জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক বিবৃতিতে সংহতি প্রকাশের জন্য পিসিবিকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। একইসঙ্গে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তানকে মাঠে নামার অনুরোধ জানান।
বিশেষভাবে পিসিবির চেয়ারম্যান মোহসিন রাজা নাকভি, তার বোর্ড ও পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রশংসা করা হয়। বিসিবি সভাপতি বলেন, 'এই সময়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পাকিস্তান যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।'
২০৩১ সালের আগে একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে বাংলাদেশ
এদিকে আইসিসি জানিয়েছে, ২০৩১ সালের বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশে একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে সংস্থাটি। সেইসঙ্গে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওপর কোনো ধরনের জরিমানা বা শাস্তি আরোপ করা হবে না।
এক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, তারা পিসিবি ও বিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি 'উন্মুক্ত, গঠনমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা' করেছে। এ বৈঠক কেবল ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের 'বিস্তৃত সম্ভাবনা' নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিবৃতিতে বিশ্ব ক্রিকেটের প্রসারে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
প্রায় ২০ কোটিরও বেশি সমর্থক নিয়ে গঠিত ক্রিকেটের অন্যতম 'প্রাণবন্ত' এই বাজারে ক্রিকেটের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আইসিসি।
বিসিবি ও পিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মূল দিকগুলো তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, এটি একটি 'সদিচ্ছাপ্রসূত ও ভবিষ্যৎমুখী ঐকমত্যের' প্রতিফলন।
ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরও নিশ্চিত করেছে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিসিবির ওপর 'আর্থিক, ক্রীড়াসংক্রান্ত বা প্রশাসনিক কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না'।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, 'বিসিবি চাইলে বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার রাখে। আইসিসির বর্তমান নিয়মের অধীনে এই অধিকার তাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।'
এছাড়া সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, ২০৩১ সালের পুরুষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে। তবে তা আইসিসির স্বাভাবিক আয়োজক প্রক্রিয়া, সময়সীমা ও পরিচালনগত শর্তাবলি পূরণের সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'এটি আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতার ওপর আস্থার প্রতিফলন। পাশাপাশি এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেটের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইসিসির যে প্রতিশ্রুতি, তা আরও জোরালো হলো।'
আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত বলেন, 'আইসিসি পুরুষ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। তবে এতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি আইসিসির দীর্ঘদিনের যে প্রতিশ্রুতি, তার কোনো পরিবর্তন হবে না।' বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইকোসিস্টেম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
