তরুপল্লবের ৪০তম ‘গাছ চেনা’ কর্মসূচি: বাকৃবিতে গাছ চিনলেন অর্ধশতাধিক তরুণ ও প্রকৃতিপ্রেমী
ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্ভিদ, প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তরুপল্লবের ৪০তম 'গাছ দেখা গাছ চেনা' কর্মসূচি। বৃহস্পতিবার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রায় অর্ধশতাধিক উদ্ভিদপ্রেমী।
অনুষ্ঠানে গাছ ও উদ্ভিদ পরিচিতি তুলে ধরেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, ফসল উদ্ভিদ-বিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ও উদ্ভিদ গবেষক আশরাফুজ্জামান এবং বোটানিক্যাল গার্ডেনের কিউরেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন।
অংশগ্রহণকারীরা উদ্যানে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি গাছ, ফুল ও লতার সঙ্গে পরিচিত হন। এ সময় বুদ্ধনারকেল, স্বর্ণঅশোক, কইনার, পাখিফুল, সুন্দরী, বর্মী শিমুল, মহুয়া, নাগলিঙ্গম, বাওবাব, গগনশিরিষ, অর্কিড, পাহাড়ি কদম ও হাড়গজাসহ নানা প্রজাতির উদ্ভিদ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
পরে অংশগ্রহণকারীরা কৃষি মিউজিয়াম ও জার্মপ্লাজম সেন্টার পরিদর্শন করেন। সেখানে কফি, লটকন, ম্যাংগোস্টিন, রাম্বুটান, পার্সিমন, ফলসা, দেশি গাব ও ডেউয়াসহ বিভিন্ন ফলদ উদ্ভিদ প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন। এতে সংগঠনের সহসভাপতি শাহজাহান মৃধা বেনু, নির্বাহী সদস্য সাহানা চৌধুরী, এডমন্ড গুডা, বোটানিস্ট ড. মাকসুদা খাতুন, ড. গোলাম শফিক, সুপ্তি জামান, সালমা আক্তার, হিল্লোল সরকার, কবি সুজন বড়ুয়া, কবি আহমেদ জসিম ও অধ্যাপক সায়মা জাহানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৃতিপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বক্তারা প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ৫ ডিসেম্বর রমনা পার্কে প্রথম 'গাছ চেনা' কর্মসূচির মাধ্যমে তরুপল্লবের যাত্রা শুরু হয়। এরপর সংগঠনটি নিয়মিত গাছ চেনানোর আয়োজন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, কর্মশালা ও প্রকৃতিবিষয়ক প্রকাশনা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
