ঢাকার সদরঘাটে প্রবাসীদের লাগেজ টানাহেঁচড়া: প্রতিবাদ করায় আমাকে অসুস্থ করে বাসায় ফেরানোর হুমকি!
আজকের এই লেখাটি হয়তো আমার ফেসবুক বন্ধুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে তারপরও লিখলাম। প্রশ্ন থেকে যায়—প্রবাসীরা কি নিজেদের দেশেই এভাবে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হবেন, আর আমরা কি এর কোনো স্থায়ী সমাধান করতে পারব না?
গতকাল দুপুরে হাতিয়া থেকে ভোলার বিভিন্ন ঘাট হয়ে ছেড়ে আসা তাশরিফ-২ লঞ্চটি আজ সকাল প্রায় ৬টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছায়। আমিও ওই লঞ্চের একজন যাত্রী ছিলাম। চালকের কেবিনের পাশের একটি সিট ৮০০ টাকায় ভাড়া নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলাম।
লঞ্চের তিনতলা থেকে নিচে নেমে দেখি প্রায় ১০–১৫ জন যাত্রীর ভিড়। তাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন প্রবাসী। সঙ্গে ছিল লাগেজ এবং পরিবারের সদস্যরা। হঠাৎ দেখি কয়েকজন কুলি তাদের ঘিরে ধরে লাগেজ নিয়ে টানাহেঁচড়া করছেন।
তাদের দাবি ছিল, লঞ্চ থেকে প্রবাসীরা নিজ মালামাল নিজে নিয়ে নামাতে হলেও জনপ্রতি অতিরিক্ত প্রায় দুই হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। একজন প্রবাসী আপত্তি করলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তাকে এই ঘাট থেকে কে ছুটিয়ে নিবে সেই হুমকিও দেয়া হয়।
ঘটনাটি দেখে আমি কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়াই এবং কাউকে বুঝতে না দিয়ে মোবাইলে কয়েকটি ছবি তুলি।
কয়েক মিনিট পর একজন এসে আমাকে জিজ্ঞেস করেন, "আপনার মালামাল কোথায়?" আমি বলি, "আমার কোনো মালামাল নেই, একজনকে ফোন করছি।"
এরপর তিনি জানতে চান, "আপনি ছবি তুললেন কেন?" তখন আমি বলি, "আপনারা কেন প্রবাসীদের এভাবে হয়রানি করছেন? সেই কারণেই ছবি তুলেছি।"
এরপর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তিনি আমাকে ছবিগুলো মুছে ফেলতে বলেন। আমি জানাই, একজন সাংবাদিক হিসেবে প্রকাশ্য স্থানে ছবি তোলার অধিকার আমার আছে। নিজের অফিস আইডি কার্ড এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সদস্য পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তিনি একই কথা বলতে থাকেন—ছবি না মুছলে "সুস্থ অবস্থায় বাসায় ফিরতে পারবেন না" বলে হুমকি দেন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত ছবিগুলো মুছে ফেলতে বাধ্য হই। পরে প্রবাসীদের লাগেজ নিয়ে লঞ্চ থেকে নামার সুযোগ দেওয়া হয়।
দুঃখের বিষয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রবাসীদের এমন হয়রানির অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে নদীপথ—অনেক ক্ষেত্রেই তারা নানা ধরনের ভোগান্তি, অতিরিক্ত অর্থ দাবি কিংবা ভয়ভীতির মুখোমুখি হন।
আমি কোনো প্রতিষ্ঠানকে দোষারোপ করতে চাই না। শুধু একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতাটি তুলে ধরলাম। কারণ, আমার বিশ্বাস, আমার মতো আরও অনেকেই প্রতিদিন এমন ঘটনা দেখেন; কিন্তু ভয়, নিরাপত্তাহীনতা কিংবা ঝামেলা এড়াতে মুখ খুলতে পারেন না।
যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সত্যিই বিষয়টি তদন্ত করতে চান, তাহলে আজ সকাল প্রায় ৬টা ৪৫ মিনিটে সদরঘাটে পৌঁছানো তাশরিফ-২ লঞ্চের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই ঘটনার একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যেতে পারে।
(তাশরিফ-২ লঞ্চের ছবিটি ব্যবহার করেছি ঘটনাটি এই লঞ্চে হয়েছে তার জন্য। তবে প্রবাসীদের সঙ্গে সদরঘাটে এমন ঘটনায় তাদের কোনো ত্রুটি ছিলোনা।)
শাখাওয়াত প্রিন্স, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত আছেন।
