তামিলনাড়ুতে গাড়ির ছাদে ঝুলে ৪০ কিলোমিটার ধাওয়া করে চোরাকারবারিদের ধরলেন পুলিশ সদস্য
ভারতের তামিলনাড়ুতে তামাকবোঝাই গাড়ি আটকাতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলন্ত গাড়ির ছাদে লাফিয়ে পড়ে ৪০ কিলোমিটার পথ সেভাবেই পাড়ি দিয়েছেন একজন পুলিশ সদস্য।
প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ তামিলনাড়ু পুলিশের হেড কনস্টেবল এম ভেলমুরুগানের প্রাণ বাঁচানোর একমাত্র অবলম্বন ছিল দ্রুতগামী ওই এসইউভির ছাদের রেলিং।
গাড়িটি যখন নিষিদ্ধ তামক নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি তার পিছু নেয়। একটি অ্যাম্বুলেন্সও পাঠানো হয় গাড়িটির পেছনে।
কোয়েম্বাতুর শহরের উপকণ্ঠে পুলিশ গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করলে সেটি পালানোর চেষ্টা করে। তখনই কোভিলপালায়ম থানার ৩৮ বছর বয়সি হেড কনস্টেবল ভেলমুরুগান গাড়ির ছাদে উঠে পড়েন।
বেঙ্গালুরু থেকে কোয়েম্বাতুরে নিষিদ্ধ তামাকজাত দ্রব্য পাচার হচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার ভোর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে।
ভোর ৫টার দিকে কর্ণাটকের লাইসেন্স প্লেটযুক্ত একটি সাদা এসইউভি পুলিশের নজরে আসে। কর্মকর্তারা গাড়িটি থামালে ভেতরের তিন আরোহী পালানোর চেষ্টা করেন। তখনই ভেলমুরুগান গাড়িটি আঁকড়ে ধরে ছাদে উঠে পড়েন।
ভেলমুরুগান বলেন, 'বাধা দেওয়ার পর গাড়িটি হঠাৎ তীব্র বেগে পেছনের দিকে যেতে শুরু করে। গাড়িটি প্রায় পালিয়ে যাচ্ছিল, এমন সময় আমি ছাদে উঠে রেলিং আঁকড়ে ধরি।'
এসইউভিটি এই পুলিশ সদস্যকে গাড়ির ছাদেই নিয়েই পালায়। কোয়েম্বাতুরের উপকণ্ঠ ছাড়িয়ে অবিনাশীগামী মহাসড়কে সেটি কখনো কখনো ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি বেগে ছুটছিল। ভেলমুরুগান রেলিং শক্ত করে ধরে ছাদেই অবস্থান করছিলেন। আর পুলিশের অন্যান্য গাড়ি তাদের ধাওয়া করছিল।
ভারতের জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দ্রুত জানানো হলে নিরাপত্তার স্বার্থে এসইউভির পেছনে একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। অ্যাম্বুলেন্স থেকে ধারণ করা দৃশ্য এবং পাশ দিয়ে যাওয়া অন্যান্য চালকদের করা ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
কোয়েম্বাতুরের পুলিশ সুপার এ পবন কুমার রেড্ডি জানান, পুলিশ কানিয়ুর টোল প্লাজাকেও সতর্ক করেছিল। কিন্তু ফাস্ট্যাগের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোলের ব্যারিয়ার উঠে গেলে গাড়িটি পার হয়ে যায়।
তবে অবিনাশীর তেক্কালুর-মঙ্গলম সড়কের কাছে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় এসইউভিটিকে আটকানো যায়। এর মাধ্যমেই এই শ্বাসরুদ্ধকর ধাওয়ার অবসান ঘটে।
গাড়ির তিন আরোহী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও তারা ধরা পড়েন। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তিন যুবক রাজস্থানের বাসিন্দা; তাদের বয়স ২০-এর কোঠায়।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পুলিশ বিপুল পরিমাণ গুটখা ও অন্যান্য নিষিদ্ধ তামাকজাত দ্রব্য উদ্ধার করেছে। জব্দ করা পরিমাণ প্রায় ১৭০ কেজি থেকে ২৫০ কেজির বেশি হতে পারে।
