মুছে গেল রানি এলিজাবেথের নাম, নতুন প্রজাতন্ত্র হিসেবে আবির্ভাব বার্বাডোজের
ব্রিটেনের সঙ্গে সর্বশেষ ঔপনিবেশিক সম্পর্কও ছিন্ন করতে চলেছে সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ বার্বাডোজ। আগামী সপ্তাহে রানি এলিজাবেথকে 'হেড অভ স্টেট' পদ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্রটি।
দ্বিতীয় এলিজাবেথ বর্তমানে বার্বাডোজসহ ১৫টি রাষ্ট্রের রানি হিসেবে স্বীকৃত।
বার্বাডোজের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশটির ইতিহাসবিদ স্যার হিলারি বেকলস। তিনি একে বার্বাডোজ ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন।
ইউনিভার্সিটি অভ ওয়েস্ট ইন্ডিজের উপাচার্য বেকলস বলেন, 'এই দ্বীপের মানুষ সংগ্রাম করেছে, শুধু স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের জন্য নয়, সাম্রাজ্যবাদী ও উপনিবেশিক কর্তৃপক্ষের অত্যাচার থেকে নিজেদের মুক্ত করার জন্যও।'
আজ থেকে ৫৫ বছর আগে স্বাধীনতা ঘোষণা করে বার্বাডোজ। এলিজাবেথকে হেড অভ স্টেট পদ থেকে অপসারণের ঘোষণার মাধ্যমে অবশেষে ঔপনিবেশিক ইংল্যান্ডের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করল দেশটি। আগামী ২৯ নভেম্বর বার্বাডোজের রাজধানী ব্রিজটাউনে এক অনুষ্ঠানে বার্বাডোজ প্রজাতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
গত প্রায় ৩০ বছরে প্রথম দেশ হিসেবে 'হেড অভ স্টেট' পদ থেকে রানি এলিজাবথকে সরিয়ে দিল বার্বাডোজ।
বাকিংহ্যাম প্যালেস বলেছে, এ সিদ্ধান্ত বার্বাডোজের মানুষের নিজেদের ব্যাপার।
বার্বাডোজে যখন প্রথম ইংরেজরা পা রাখে তখন দ্বীপটিতে মানুষের বসবাস ছিল না। ইংরেজরা প্রথমে শর্তাধীন শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ চাকরদের দিয়ে তামাক, তুলা, নীল ও আখের চাষ করাত। তবে কয়েক দশকের মধ্যেই বার্বাডোজ ইংল্যান্ডের প্রথম প্রকৃত লাভজনক ক্রীতদাস সমাজ হয়ে ওঠে।
১৬২৭ সাল থেকে ১৮৩৩ সালের মধ্যে বার্বডোজে ৬ লাখ আফ্রিকান ক্রীতদাস নিয়ে যাওয়া হয়। এরা আখ খেতে কাজ করে ইংরেজ প্রভুদের ভাগ্য ফিরিয়ে দেয়।
দ্বীপটি ১৯৬৬ সালে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে।
