সরকারি ব্যবস্থায় হজযাত্রী কমছে, ২০২৭-এ কোটা বাড়িয়ে ৬,০০০
গত কয়েক বছর ধরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী পাঠানো ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২৩ সালে সরকারি ব্যবস্থায় ১০ হাজার ৩৬০ জন হজে গেলেও ২০২৪ সালে তা কমে ৪,৫৬২ জনে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে সামান্য বেড়ে ৫,২০০ হলেও ২০২৬ সালে আবার কমে ৪,৫৬৫ জনে নেমেছে।
এই পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর কোটা বাড়িয়ে ৬,০০০ জন নির্ধারণ করা হয়েছে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত বাংলাদেশের মোট হজ কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থায় ৬,০০০ এবং বেসরকারি ব্যবস্থায় ৭২ হাজার ৫০০ জন হজে যেতে পারবেন।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২৭ সালের হজ প্রস্তুতি-সংক্রান্ত নথি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
নথি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে ৭১টি হজ এজেন্সি ২৮টি লিড এজেন্সির অধীনে সমন্বিতভাবে হজ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নির্ধারিত কোটার বাইরে বিভিন্ন লিড এজেন্সির কাছ থেকে আরও ১৬ হাজার ৮৩৩ জন হজযাত্রীর নিবন্ধনের চাহিদা পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত এই হজযাত্রীর জন্য সৌদি সরকারের কাছে কোটা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মন্ত্রণালয়ের নথিতে কোটা বাড়ানো সম্ভব হলে ২০২৭ সালে মোট হজযাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৯৬ হাজার হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি ব্যবস্থায় বড় পতন
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ২০২২-২০২৬ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি ব্যবস্থায় হজযাত্রীর সংখ্যা ২০২৩ সালেই সর্বোচ্চ ছিল। ওই বছর বাংলাদেশের মোট হজ কোটা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ৫৫৮ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থায় ১০ হাজার ৩৬০ জন, অর্থাৎ প্রায় ৮% হজযাত্রী গিয়েছিলেন। পরের বছর মোট কোটা কমে ৮৫ হাজার ২৫৭ জনে নামার পাশাপাশি সরকারি ব্যবস্থার হজযাত্রীও কমে ৪,৫৬২ জনে দাঁড়ায়।
২০২৫ সালে মোট ৭৯ হাজার ৫০০ হজযাত্রীর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থায় ছিলেন ৫,২০০ জন। আর ২০২৬ সালে মোট কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন হলেও সরকারি ব্যবস্থায় হজে যান ৪,৫৬৫ জন।
অর্থাৎ ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থায় হজযাত্রীর সংখ্যা ৫,৭৯৫ জন বা প্রায় ৫৬% কমেছে। অন্যদিকে, একই সময়ে বেসরকারি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ২০২৬ সালে ৭৮ হাজার ৫০০ জনের মোট কোটার মধ্যে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জনই বেসরকারি ব্যবস্থায় হজে গেছেন।
২০২৭-এর প্রস্তুতি এগোচ্ছে
২০২৭ সালের হজের জন্য সরকার ইতোমধ্যে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সরকারি ব্যবস্থায় সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা এবং অন্য প্যাকেজের মূল্য ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থায় সাধারণ প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি দল সৌদি আরব সফরের অনুমোদনও পেয়েছে।
সৌদি সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ২০২৭ সালের হজ-সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ৮ নভেম্বর ২০২৬ সই হওয়ার কথা রয়েছে। হজের ভিসা ইস্যু শুরু হবে আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারি এবং বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ৮ এপ্রিল। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এরপর সৌদি অংশের অর্থ পরিশোধ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফিটনেস সনদ, টিকা, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে।
তবে গত কয়েক বছরে সরকারি ব্যবস্থায় হজযাত্রীর অংশগ্রহণের ধারাবাহিক পতন এবারও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকছে। ২০২৭ সালে কোটা ৬,০০০-এ উন্নীত হলেও সেটি ২০২৩ সালের ১০ হাজার ৩৬০ জনের তুলনায় এখনো ৪,৩৬০ জন কম।
