বাংলামোটরে চাঁদা চেয়ে গুলি: বহিস্কৃত যুবদল নেতা সাইমনসহ ৪ জন রিমান্ডে
রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় চাঁদা না পেয়ে মারধর ও ফাঁকা গুলিবর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার যুবদলের বহিস্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনসহ ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালত এই আদেশ দেন।
রিমান্ডে পাঠানো বাকি আসামিরা হলেন- ওমর (৩২), মোর্শেদ (২৫) ও মো. শাওন (২৫)।
এরমধ্যে প্রধান আসামি সাইমনকে চার দিন এবং বাকি তিনজনকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, 'শুনানির সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী ছিল না।'
এর আগে, আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাসিম।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার আসামিরা সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মামলার অন্যান্য তথ্য উদ্ধারে রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
এ ছাড়াও এসব আসামির বিরুদ্ধে হাতিরঝিল ও কলাবাগান থানায় বিভিন্ন মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে হাতিরঝিল থানার বাংলামোটরের নিউ ইস্কাটন এলাকায় একটি বাসার সামনে বাদী মো. সোহানের পথরোধ করেন আসামিরা। এসময় প্রধান আসামি ফেরদৌস আহমেদ সাইমন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন পিস্তল বের করে তার বুকের দিকে তাক করেন এবং গুলি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে সাইমন পিস্তলের বাট দিয়ে বাদীর মাথায় আঘাত করেন। অন্য আসামিরাও তাকে মারধর করেন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। আহত বাদী স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে বাদীর ভগ্নিপতি মো. মোক্তার হোসেন তার কাছে আসেন। এসময় সাইমনসহ অন্য আসামিরা মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে এসে আবারও বাদীকে মারধরের চেষ্টা করেন। বাধা দিতে গেলে মোক্তার হোসেনকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামি সাইমন পিস্তল দিয়ে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে কয়েকজনকে আটক করেন। সাইমনও পালানোর চেষ্টাকালে আটক হন।
খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সোহান মামলাটি দায়ের করেন।
