মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে জাপানে সুদের হার ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে
জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে জাপানে। এর মধ্যে কয়েক দশকের অতি কম সুদের নীতি থেকে সরে আসার ধারাবাহিকতায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও সুদের হার বাড়িয়েছে। শুক্রবার ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) সুদের হার ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.২৫ শতাংশ করেছে, যা ১৯৯৫ সালের পর সর্বোচ্চ।
সুদের হার বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিতই ছিল। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায় বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদের হার বাড়াচ্ছে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ তিন বছরের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো তাদের নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ঋণের খরচ বাড়িয়েছে।
জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৪ সাল থেকে সুদের হার বাড়িয়ে আসছে। সে সময় দেশটির সুদের হার ছিল ঋণাত্মক ০.১ শতাংশ। গত আড়াই বছরে ছয়বার সুদের হার বাড়িয়েছে বিওজে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ালে সাধারণত দেশটির মুদ্রা শক্তিশালী হয়। কারণ এতে ওই মুদ্রায় বিনিয়োগ বা লেনদেন ব্যবসায়ীদের কাছে তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইটোরোর বাজার বিশ্লেষক লালে আকোনের বলেন, 'বিশ্বের অতি সস্তা অর্থের শেষ দিকের একটি উৎসও এখন হারিয়ে যাচ্ছে।'
দুর্বল ইয়েন, বাড়তে থাকা পণ্যমূল্য এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়াসহ বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে জাপান।
শুক্রবার বিওজের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। আগস্টে মূল মূল্যস্ফীতি কমে ১.৭ শতাংশ হয়েছে, যা জুলাইয়ে ছিল ১.৮ শতাংশ। তবে এটি এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জাপানের মূল্যস্ফীতির হার খুব বেশি নয়। তবে দেশটির অর্থনীতিতে মূল্যবৃদ্ধি তুলনামূলক নতুন একটি প্রবণতা। প্রায় তিন দশক ধরে জাপানে মূল্যস্ফীতি খুব কম ছিল অথবা পণ্যের দাম কমেছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় চলতি বছর বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানির ওপর জাপানের ব্যাপক নির্ভরতা থাকায় এসব সরবরাহে বিঘ্নের প্রভাব দেশটির ওপর বিশেষভাবে পড়তে পারে।
এদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জাপানের মুদ্রা ইয়েনও চাপের মুখে রয়েছে।
আগস্টে টোকিও ও ওয়াশিংটন জানায়, ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে তারা যৌথভাবে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। এর আগে ইয়েন ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।
২০১১ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর ইয়েন দুর্বল করতে দুই দেশ একসঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়ার পর এবারই প্রথম তারা যৌথভাবে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করল।
তখন জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও তারা যৌথভাবে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করতে পিছপা হবেন না।
ইয়েনের দর বাড়াতে সুদের হার বাড়ানোর জন্য বিওজের ওপর চাপও বাড়িয়েছেন বেসেন্ট। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদাকে তিনি 'সঠিক কাজটি করার' আহ্বান জানিয়েছেন।
লালে আকোনের বলেন, 'সুদের হার বাড়ানোর পরও যদি ইয়েন দুর্বল থাকে, তাহলে মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে বাজার বা জাপান সরকার যতটা চাইবে, তার চেয়েও দ্রুত সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে বিওজে।'
