কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন বিদিশা সিদ্দিক
প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র জেল সুপার নজরুল ইসলাম।
তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে বিদিশা সিদ্দিকের জামিনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছায়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর গুলশান থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। মিরপুর-১০ এলাকার স্যানিটারি পণ্য আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০০১ সালে বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন মোশাররফ হোসেন এবং পরে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির বিষয়ে তাদের মধ্যে ৮০ লাখ টাকার একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগের আদেশ দেন আদালত।
গ্রেপ্তার ও কারাবাসের রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরদিন ২৬ আগস্ট তাকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
বিচারিক আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রথমে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আপিল করে জামিন চেয়েছিলেন বিদিশা। তবে গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির তার সেই জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।
এরপর বিদিশা জামিনের জন্য উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। আবেদনের শুনানি শেষে গত রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন।
উচ্চ আদালতের সেই জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর আজ মঙ্গলবার বিকেলে তিনি চূড়ান্তভাবে কারামুক্ত হন।
কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর বিদিশা একটি অটোরিক্সায় চড়ে কারাগারের কম্পাউন্ডের বাইরে আসেন। পরে সেখান থেকে তার স্বজনদের সঙ্গে একটি লাল রংয়ের পাজেরো জিপে চড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
