অভিনেত্রী বাঁধনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে নির্দেশ: হুমায়ুন কবির
ইতালির ভেনিসে হেনস্তা ও হামলার শিকার অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের দূতাবাস ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করবে এবং এ ঘটনার বিষয়ে সবচেয়ে শক্ত অবস্থান তুলে ধরবে। একই সঙ্গে বাঁধনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কনস্যুলার সহযোগিতা দেওয়ার জন্য দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে, রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, 'বাংলাদেশের একজন পরিচিত অভিনেত্রী বিদেশে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়াকে তার ওপর হামলার কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'বিভিন্ন সময়ে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিএনপি, জামায়াত বা অন্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ বিদেশে গেলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের লোকজন তাদের হেনস্তা ও হামলা করছে। এমনকি তাদের দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।'
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, 'জাতিসংঘের একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় তিনিও এ ধরনের হামলার শিকার হয়েছিলেন।'
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের আইনের আওতায় আনতে সরকারের পরিকল্পনা কী এবং এ বিষয়ে সরকার দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে কি না, তা জানতে চান তিনি।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, আরেকজন সংসদ সদস্যও একই বিষয়ে কথা বলেছেন। দুই সংসদ সদস্যের উত্থাপিত বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, সংসদে এটি তার প্রথম বক্তব্য। শুরুতেই তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে জীবন দেওয়া সব জুলাই যোদ্ধাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
একই সঙ্গে আহত সব জুলাই যোদ্ধাকেও স্মরণ করেন তিনি।
তিনি বলেন, 'গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে স্বৈরাচারী ও সন্ত্রাসী শেখ হাসিনাকে বিতাড়িত করে বাংলাদেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এই মহান জাতীয় সংসদে আসায় সরকারি দলের ট্রেজারি বেঞ্চের সব সদস্য এবং বিরোধী দলের সব সদস্যকে অভিনন্দন জানাই।'
হুমায়ুন কবির বলেন, 'একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা মানে এই দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা।'
আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, '৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাংলাদেশের প্রখ্যাত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ইতালির ভেনিস শহরে তার ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে একটি পার্কে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়া আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তার ওপর কাপুরুষোচিত হামলা চালায়।'
তিনি বলেন, 'আজ সকালে আমি পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি এবং আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। একই সঙ্গে সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি, যাতে আমরা ইতালির পুলিশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করতে পারি এবং মিস বাঁধনকে সর্বোচ্চ কনস্যুলার সহযোগিতা দিতে পারি।'
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্থানীয় পুলিশকে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেটকে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বলা হয়েছে।'
'দেশ লুট ও মানুষ হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেব'
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত সরকার দীর্ঘদিন হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। যারা এ দেশ লুট করেছে, মানুষ হত্যা করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, 'এই দেশ লুটিং, কিলিং পিপল—যারা করেছে, তাদের আমরা এই দেশে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা, ইনশাআল্লাহ, নেব।'
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশের জন্য আজ একটি গর্বের দিন। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতিত্ব গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছে।'
তিনি বলেন, 'এটি বাংলাদেশের কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি শক্ত অবস্থান। বাংলাদেশ এখন আর কোনো দেশের দাসত্ব, কোনো দেশের গোলামি আর করবে না। বাংলাদেশ তার নিজস্ব পথে চলবে।'
হুমায়ুন কবির বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এবং এই মহান সংসদের সমর্থনে বাংলাদেশ এমন একটি দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, যে দেশ বিশ্বে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে নিজস্ব স্বার্থ, মর্যাদা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ নিজের অবস্থান আরও শক্ত করবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিজস্ব পথে চলবে।'
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত মর্যাদার বিষয়। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।'
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এবং জাতীয় সংসদের সমর্থনে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
