ইরানে নতুন করে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র
কয়েক সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ইরানের অভ্যন্তরে নতুন করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সামরিক কর্মকর্তারা একে সংঘাতের পরিধি বিস্তার করা হিসেবেই দেখছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা চেষ্টার জবাবেই নতুন এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আক্রমণ ছিল মূলত গত রোববার থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার অংশ। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক মাইন বেছানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় লারাক দ্বীপে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপকগুলো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এর জবাবে জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান, যেখানে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি ছিল। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, (ওই ঘাঁটি লক্ষ্য করে) নিক্ষিপ্ত আটটি ক্ষেপণাস্ত্রই মাঝপথে ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তেহরান যদি আবারও পাল্টা আঘাত বা প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাদের "আরও কঠোর ও উচ্চ মাত্রায় আঘাত হানা হবে" বলে চরম হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং যুদ্ধজাহাজ মিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সেনাসদস্য এই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। তেহরানের ওপর তীব্র অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশিত নৌ-অবরোধ বাস্তবায়নের দায়িত্ব হচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনীর।
এদিকে সংঘাত বন্ধ করা ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংকুচিত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বর্তমানে পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে টানা ছয় মাস ধরে চলতে থাকা এই সংঘাতের কোনো শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা— অদূর ভবিষ্যতে দেখা যাচ্ছে না।
